জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিন্যান্স বিভাগের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বরের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জকসুর সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আবদুল আলিম আরিফসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা।
বিচারপ্রক্রিয়ায় অগ্রগতি নেই
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অতীতেও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, কিন্তু আমরা বিচার পাইনি। এখন আমাদের আরেক ভাই বুলেট ভাইকে হত্যা করা হয়েছে, অথচ বিচারপ্রক্রিয়ার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করছি।’
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশে জকসু ভিপি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপনারা যদি জনগণের জান ও মালের নিশ্চয়তাই নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’ এ সময় জকসুর এজিএস মাসুদ রানা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থান
জকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ‘দেশের একজন কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে, সরকারের উচিত ছিল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু বিচারে এখনো কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা আজ এখানে উপস্থিত হয়েছি। সরকারকে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে অতি শিগগিরই।’
ঘটনার বিবরণ
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম থেকে গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন বুলেট বৈরাগী (৩৫)। কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার কথাও বলেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর আর বাসায় ফেরা হয়নি। গত শনিবার সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার আইরিশ হিল হোটেলের পাশে ওই কাস্টমস কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহে আঘাতের রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।



