টঙ্গীতে বাবা-ছেলে হত্যা মামলা: বোন বাদী, বড় ছেলে আটক
টঙ্গীতে বাবা-ছেলে হত্যা মামলা: বোন বাদী, বড় ছেলে আটক

গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনায় নিহত সোহেলের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে মামলা করেছেন। সোমবার সকালে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রবিবার ভোরে স্থানীয় বনমালা এলাকা থেকে বাবা-ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণ

পুলিশ জানায়, রবিবার ভোররাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকায় মো. সোহেল ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব হত্যার ঘটনায় সোহেলের বোন শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কাউকে আসামি না করলেও আটক সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

নিহতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন, টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া বনমালা প্রাইমারি স্কুল রোডের মোস্তফা দর্জির ছেলে মো. সোহেল (৪৮) ও তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। এ ঘটনায় আটক নিহত সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)। নিহত শোয়েব রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি দোকানে চাকরি করতেন। আটক সাইফুর রহমান একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করতেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরেজমিন জানা যায়, নিহত সোহেল ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। একসময় তিনি সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে টঙ্গীর বনমালায় এক কাঠা জমি ক্রয় করে দুই রুমের একটি টিনশেড ঘর তৈরি করে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সোহেলের বোনেরা বড়লোক হওয়ায় তাকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করতেন। এ অবস্থায় ভালই চলছিল চার সদস্যের পরিবার। ১৮ মাস আগে জটিল রোগে তার স্ত্রী মারা যায়। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই ছেলেকে রান্না করে খাওয়াতেন বাবা। দুই ছেলের দেখভাল ও রান্নাবান্না করা ছাড়া তার অন্য কোনো কাজ ছিল না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে সোহেল তার দুই ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব ও সাইফুর রহমান সোহানকে নিয়ে একই বাড়ির দুই রুমে ঘুমিয়েছিলেন। ভোররাতে চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ জড়ো হয়। এরপর এক রুম থেকে ছেলে সাকিবুরের ও বাসা সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে বাবা সোহেলের লাশ উদ্ধার হয়। ট্রেনে কাটা পড়ে সোহেলের মৃত্যু হওয়ার সন্দেহে জিআরপি পুলিশ লাশ নিয়ে যায়, আর ঘর থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ সাকিবের লাশ নেয়। সাকিবুর রহমানের লাশের বিভিন্ন অংশে কাটা দাগ ছিল। তার মুখের ভেতর কাপড় গুঁজে দেওয়া ছিল। দুই হাতের রগও কাটা ছিল। সোহেলের শরীরের বিভিন্ন অংশেও জখমের দাগ ছিল। এ অবস্থায় দুই লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

সন্দেহভাজন আটক

ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ৭ মিনিটের সময় সাইফুর রহমান সোহান তার বাবা সোহেলকে অসুস্থ অবস্থায় টেনে হিঁচড়ে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ বলছে, সাইফুরের সাথে আরও একজন ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে আরেক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যাকে স্থানীয়ভাবে মাদানী আলিফ ওরফে আলিফ সাদমান নামে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। তবে তার পরিচয় ও ভূমিকা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

প্রতিবেশীদের বক্তব্য

ঘটনাস্থলের সোহেলের প্রতিবেশী আব্দুল বারেক বলেন, এই পরিবার ভালো ছিল। তাদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ শুনিনি। ঘটনার আগের দিন সোহেল আমার কাছ থেকে একশ টাকা ধার নিয়েছিল। শান্ত পরিবারে কেন এমন হল তা নিয়ে তারা চিন্তিত।

টঙ্গী জিআরপি পুলিশের ইনচার্জ নুরে আলম বলেন, সোহেলের লাশ রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মন্তব্য করা যাবে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন টঙ্গীতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে রাত ১টা ৭ মিনিটে কাটা পড়ে সোহেল মারা যায়। আর সোহেলের ঘর থেকে তার ছেলের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেলের বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আশা করছি খুব দ্রুতই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।