তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনা হাফিজুর রহমান কারাগারে
তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনা হাফিজুর রহমান কারাগারে

তিন দিনের রিমান্ড শেষে সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে আজ শনিবার কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে হাজির ও কারাগারে প্রেরণ

শনিবার দুপুর দুইটার দিকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমানের আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে পিবিআইয়ের কল্যাণপুরের বিশেষ ইউনিটে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

হাফিজুর রহমানের পরিচিতি

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। বর্তমানে তাঁর বয়স ৫২ বছর। ২০২৩ সালে তিনি অবসর নেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে পিবিআই সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে বুধবার সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে নিরাপত্তা

সরেজমিনে কুমিল্লা আদালতে দেখা যায়, শনিবার দুপুর একটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে হাফিজুর রহমানকে আদালতে আনা হয়। দুপুর দুইটার দিকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বেলা ২টা ২০ মিনিটে পিবিআই সদস্যরা তাঁকে কারাগারে নিয়ে যান। পুরো সময়জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ছিল। কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে এ জন্য হাফিজুর রহমান মুখে মাস্ক পরে ছিলেন। এ ছাড়া ছবি তোলার চেষ্টা করা হলেও তিনি গাড়ির ভেতরে নিচু হয়ে নিজেকে আড়াল করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আবারও আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

ডিএনএ নমুনা ও অন্যান্য সন্দেহভাজন

৬ এপ্রিল একই আদালতে হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তা মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালত তাতে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হাফিজুর রহমান। অন্য দুজন হলেন—ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তারা বর্তমানে অবসরে আছেন বলে জানা গেছে।

নাম নিয়ে বিতর্ক

মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ। শুরু থেকেই তাঁরা এই নামগুলো বলে আসছেন। শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তাঁরা জানতেন না; সৈনিক জাহিদের নামই বারবার আলোচনায় এসেছে। সৈনিকের নাম জাহিদ না শাহীন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তদন্ত ও পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তাদের তদন্তে ওই সৈনিকের নাম শাহীন উঠে এসেছে। শাহীন আর সৈনিক জাহিদ দুজন আলাদা ব্যক্তি। আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্তেই সব বেরিয়ে আসবে।’ হাফিজুরের ডিএনএ পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে নেওয়ার পর তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছি। এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগে। প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।’

ঘটনার বিবরণ

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।