জামালপুরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের দায়ে তিন জনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– জামালপুর উপশহরের খুপিবাড়ী বেলটিয়া গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে বুলবুল আহমেদ (৪৫), পাথালিয়া নাওভাঙ্গার চর গ্রামের মৃত কবেজ উদ্দিনের ছেলে কালাম মাক্কু (৫০) এবং পাথালিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত দুখুর ছেলে রুকু (৫৫)।
ঘটনার বিবরণ
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৩ সালের ১৪ মে রাত ১০টার দিকে জামালপুর পৌর এলাকার শাহ জামালের মাজারের সামনে থেকে ওই গৃহবধূকে আসামিরা খুপিবাড়ী এলাকায় বুলবুলের বাড়িতে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখানে তারা জোর করে রুকুর সঙ্গে ভুক্তভোগী গৃহবধূর বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করে। গৃহবধূ রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই নারীকে তারা তিন জন সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে।
মামলার অগ্রগতি
এ ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নারী ঘটনার কথা বলার পর তার স্বামী বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার দুই বছর পর ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম আইনের ৯(৩) ধারায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যদণ্ড দেন। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানাও করেন। এই জরিমানার টাকা ভুক্তভোগী পাবেন।
আইনজীবীদের ভূমিকা
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি মো. ফজলুল হক মামলার শুনানি করেন এবং তাকে সহযোগিতা করেন এপিপি রেজিনা আকতার এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম কামরুল ইসলাম (উল্লাস)।



