কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি
কুমিল্লায় অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণে বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরানো

কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের অনুষ্ঠানে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি

কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নানের অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় প্রধান বিচারপতি তাকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি ও বিস্তারিত বিবরণ

গত ৩ এপ্রিল কুমিল্লায় এপেক্স ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে বিচারপতি আব্দুল মান্নান অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি সেখানে বিচারপতি হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে হুমকি প্রদান করেন এবং একটি বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনা ও জনমতের সৃষ্টি করে।

বিচারপতির এমন আচরণ বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর ফলে, প্রধান বিচারপতি সম্প্রতি বিচারকাজ পরিচালনার জন্য যে ৬৩টি বেঞ্চ গঠন করেছেন, সেখানে বিচারপতি আব্দুল মান্নানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাকে বিচারকাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখা হয়েছে, যা তার পেশাগত দায়িত্বে একটি সাময়িক স্থগিতাদেশের সমতুল্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচারপতি আব্দুল মান্নানের পেশাগত ইতিহাস

বিচারপতি মো. আব্দুল মান্নান ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার নিয়োগটি বিচার বিভাগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। এর আগে, তিনি পিরোজপুর জেলার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে তিনি বিচারিক কাজে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে, কুমিল্লার এই ঘটনাটি তার পেশাগত জীবনকে একটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তটি বিচার বিভাগের নীতিমালা ও নৈতিকতার প্রতি অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। এটি অন্যান্য বিচারকদের জন্য একটি সতর্কীকরণ হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে তারা তাদের পদমর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতি সচেতন থাকেন।

এই ঘটনাটি বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।