গাজীপুরে ইমাম কন্যা অপহরণ: ৮ গ্রেফতার, প্রধান আসামি পলাতক
গাজীপুরের শ্রীপুরে মসজিদের ইমামের মেয়েকে অপহরণের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে প্রধান আসামি মো. আবিদ (২১) এখনো পলাতক রয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই ছাত্রী (১৬) পরিবারের সঙ্গে শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করেন। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৪ এপ্রিল মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার স্টেশনের কাছ থেকে একই এলাকার যুবক আবিদ তাকে অপহরণ করেন।
পরবর্তীতে অপহরণকারীর অভিভাবককে চাপ দেওয়ার পর পরদিন সকাল ১০টার দিকে আবিদ ওই ছাত্রীকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে উভয়পক্ষ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে বসেন। সেখানে বিষয়টি ফয়সালা না হওয়ায় বেলা ১১টার দিকে আবিদ তার সহযোগীদের মাধ্যমে পুনরায় ওই ছাত্রীকে অপহরণ করেন এবং তার আত্মীয়-স্বজনকে মারপিট করেন।
মামলা ও তদন্ত
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা পরদিন শ্রীপুর থানায় আবিদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। পরে পুলিশ গত শনিবার ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। অপহৃত ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা, বয়স নির্ধারণ এবং নারী-শিশু আইনের ২২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য শনিবার বিকালে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এসআই লাল চাঁন বলেন, "ওই মাদ্রাসাছাত্রী আদালতে বাবার দায়ের করা অভিযোগের পক্ষে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে বাবার জিম্মায় ছেড়ে দিয়েছেন।"
ছাত্রীর বর্ণনা
উদ্ধার হওয়ার পর ইমাম কন্যা এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমাকে ছুরির ভয় ও তাদের সঙ্গে না গেলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে রিকশাযোগে নিয়ে প্রথমে আবিদের বন্ধু সুমিতের বাসায় রাখে। এ সময় রিকশাওয়ালা আমাকে না নিতে চাইলে তাকেও ছুরি দিয়ে ভয় দেখায় তারা।"
তিনি আরও বলেন, পরে রাতে একটি রিসোর্টে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে রাত ১০টার সময় একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবিদের বন্ধু উজ্জল, সুমিত ও পাপ্পু উপস্থিত ছিল। এ সময় সুহানকে উকিল বানিয়ে জোর করে বিয়ে পড়ানো হয়। সেখানে আবিদের চাচা বাচ্চু এবং সোহানের বাবা উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্রী দাবি করেন, "যে বিয়ে পড়িয়েছে তিনি কোনো হুজুর না, তিনি কাজি কিনা তাও সন্দেহ হয়েছে। সেখানে তারা জোরপূর্বক আমার হাত ধরে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়েছে। এছাড়াও আমার বাবা আর ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছে যে, আবিদের সঙ্গে আমি স্বেচ্ছায় চলে গিয়েছি।"
বিপরীত দৃশ্য
তবে অপর একটি ভিডিওতে ইমামকন্যা এবং অভিযুক্ত আবিদকে স্বাভাবিকভাবে পাশাপাশি হেঁটে যেতে দেখা যায়। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত আবিদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আটজন আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধান আসামি আবিদকে গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।



