রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগে ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
সাময়িক বরখাস্তের ঘটনা
বৃহস্পতিবার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে ওই ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তারা হলেন- এসআই মাসুদ রানা, এসআই আলম বাদশাহ, এসআই আকতারুল ইসলাম, এএসআই মনিরুল ইসলাম, এএসআই আরিফুল ইসলাম, এএসআই মেহেরুন নেসা, কনস্টেবল মোস্তাকুর রহমান খন্দকার, কনস্টেবল মোখলেছুর রহমান মামুন, কনস্টেবল রাকিব আহমেদ, কনস্টেবল লিমা সরেন ও কনস্টেবল ভাবনা রানী।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা
শুক্রবার রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং কোতোয়ালি থানায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা করে বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্পন্ন করে এই প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। এরপর তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত ৩ জুন থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের রংপুর সদর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিব মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই দিন তিনি থানায় একটি পারিবারিক সালিশ বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। মারধরের খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা থানায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পূর্ববর্তী পদক্ষেপ
এ ঘটনার পর পরই কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান, কনস্টেবল লিমা সরেন, বাসুদেব, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও এসআই মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল।
আইনগত ভিত্তি
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় পিআরবির ৮৮০ বিধি এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৯(১) উপধারার বিধান অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরপোষ ও ভাতাদি পাবেন।
শূন্য সহনশীলতা নীতি
এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, কোনও পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরপিএমপি ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় অব্যাহত থাকবে।



