সাংবাদিক পরিচয়ে অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সাংবাদিক পরিচয়ে যাঁরা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা এবং সম্মতি উৎপাদন করেছেন, সেসব সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ
সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা প্রয়োজন। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় সাংবাদিকতা করা কঠিন ছিল। সেই সময়েও অনেক পেশাদার সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যারা গণহত্যা, ভোট চুরি, গুম, খুন, ব্যাংক ডাকাতির বৈধতা ও সম্মতি উৎপাদন করেছে মিডিয়াগুলোতে এবং যারা আজকে সরকার দলে আছে বিএনপি ও জামায়াত, তাদেরকেও বিভিন্ন সময় হত্যা করার সম্মতি উৎপাদন করেছে কিছু মিডিয়া এবং নামধারী সাংবাদিক।’ তিনি অভিযোগ করেন, এখন টিভি থেকে জুলাইয়ের পক্ষের সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়েছে, সময় টিভি দখল করা হয়েছে এবং ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া তথা বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়াগুলো প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করছে।
প্রতিমন্ত্রীর জবাব
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করার কাজ করবে, কোনো সন্ত্রাসের কাজ করবে; সে যে–ই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক কার্ড ও অনলাইন মিডিয়া নীতিমালা
সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, এখন উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সাংবাদিকের কার্ড পাওয়া যায়, যারা রিপোর্টারও নন, ম্যাট্রিক পাসও নন। ইউটিউবের মাধ্যমে যা ইচ্ছা প্রচার করছেন। তিনি জানতে চান, এ ধরনের ব্যক্তিদের কে সাংবাদিকের কার্ড দেয় এবং এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না। জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন নিয়ে কাজ করছে। যাঁরা সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন। এ বিষয়ে একটি টিম করা হয়েছে এবং মনিটরিং করে তাঁদের আইনের আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ চলছে।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে সব অনলাইন মিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালকে অনুমতি দেওয়া হবে।
পত্রিকা প্রকাশনার তথ্য
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকা ৫৮৫টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ৩৬৩টি এবং মাসিক পত্রিকা ২৯৬টি। এর মধ্যে মিডিয়া তালিকাভুক্ত দৈনিক ২৮৮টি, সাপ্তাহিক ৫৬টি ও মাসিক ২৩টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।



