পল্লবী শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ
পল্লবী শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় আজ

রাজধানীর মিরপুরের আলোচিত পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আজ রবিবার (৭ জুন)। সকাল ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করবেন।

দ্রুততম বিচার ও রায়

সারা দেশে আলোচিত নির্মম এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারে ইতিহাস সৃষ্টি করে মাত্র ২০ দিনের মাথায় এ রায় ঘোষণা করা হচ্ছে। এ ঘটনা তদন্তে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সময় নিয়েছেন মাত্র পাঁচ দিন। গত ১৯ মে ঘটনার পর ২৪ মে তিনি আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর স্বপ্নাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১ জুন মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। মাত্র ৪ কার্যদিবসে মামলার কার্যক্রম শেষ করে ৫ কার্যদিবসে আজ এ মামলায় রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।

ঘটনার ক্রমবিবরণী

নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে রায় পর্যন্ত ক্রমবিবরণী তুলে ধরা হলো-

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১৯ মে: নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার

সকালে পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে একই ভবনের ভাড়াটিয়া প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে রামিসার পায়ের জুতো পাওয়া যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, রামিসাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে সোহেল তাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর আলামত নষ্ট করতে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয় আসামি স্বপ্নাকে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল থানার সামনে থেকে আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০ মে: মামলা দায়ের ও জবানবন্দি

ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় প্রধান আসামি সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাত এক থেকে দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি সোহেল রানা আদালতের স্বেচ্ছাস্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দী শেষে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২৪ মে: চার্জশিট দাখিল

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ঘটনা তদন্ত করে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে অভিযুক্ত করে মাত্র ৫ দিনের মাথায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্ট করার এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। ওইদিন মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

১ জুন: চার্জ গঠন

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

২ জুন: সাক্ষ্যগ্রহণ

একদিনে বাবা, মা, বোন, প্রত্যক্ষদর্শী, সুরতহাল রিপোর্টের সাক্ষি, ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট, ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন।

৩ জুন: আত্মপক্ষ সমর্থন

আসামিরা আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তবে তার স্ত্রী স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

৪ জুন: যুক্তিতর্ক

রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের ফাঁসি ও আসামিপক্ষ আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা করেন।

৭ জুন: রায় নির্ধারণ

বিচারিক কার্যক্রমের সমস্ত আইনি ধাপ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পর, চাঞ্চল্যকর ও জঘন্যতম এই হত্যার বিচার ৪ দিনে শেষ করে মাত্র ১৯ দিন পর ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য ৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন। এদিন সকাল ৮ টা ২৫ মিনিটের দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। এরপর পৌনে ৯ টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে উপস্থিত করা হয়। এরপর তাদের ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। এছাড়াও আদালত চত্বর ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত হতে শুরু করেন। রায়কে ঘিরে আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আদালতের বিভিন্ন স্থানে উৎসুক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।