প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিবালয়ে থাকা লাল টেলিফোন সংযোগের কপার তার চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। শুক্রবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ
ঢাকা মহানগর দায়রা বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক এনজামুল হক দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চান। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনার পটভূমি
সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তার চুরির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। ঘটনার পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) শাহবাগ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ
তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপলব্ধ প্রমাণ ও গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মচারী ২৬ বছর বয়সী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে রঞ্জন চন্দ্র গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে কপার তার চুরির কথা স্বীকার করেন বলে সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে।
তিনি ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে অবস্থিত একটি স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর কাছে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে ৮.২ কেজি চুরি করা কপার তার বিক্রি করেন বলে জানা গেছে।
অভিযান ও উদ্ধার
রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসি একটি দল একুশে হলের পাশের একটি স্ক্র্যাপ দোকান থেকে ৩২ বছর বয়সী রিজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তকারীরা চকবাজারের হোসেনি দালান সড়কের একটি স্ক্র্যাপ গুদামে অভিযান চালিয়ে পিএমও’র লাল টেলিফোন সংযোগের চুরি হওয়া কপার তার উদ্ধার করে।
সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার আশঙ্কা
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে, সচিবালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ লাইন থেকে তার চুরির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত থাকতে পারে। তদন্ত চলছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে সিটিটিসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।



