রাষ্ট্র, আইন এবং সমাজ—এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। একটি রাষ্ট্র তখনই কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারে যখন সেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকে। আর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হলো পুলিশ। পৃথিবীর সব দেশেই পুলিশকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের গ্রেফতার, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোকে সুরক্ষিত রাখা।
মানবিক পুলিশিং বনাম বাস্তবতা
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ‘মানবিক পুলিশিং’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, পুলিশকে যতটা সম্ভব কোমল, সহনশীল ও মানবিক আচরণ করতে হবে। অন্যদিকে বাস্তবতা হলো, সমাজে এমন একটি শ্রেণি সব সময় বিদ্যমান থাকে যারা আইন মানতে চায় না, রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করে এবং নিজেদের স্বার্থে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে প্রস্তুত থাকে। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের মানুষদের মোকাবিলায় কি কেবল অনুরোধ, বোঝানো কিংবা নৈতিক উপদেশ যথেষ্ট? নাকি আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় বলপ্রয়োগও অপরিহার্য?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান, আইন এবং পুলিশবিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হবে।
রাষ্ট্রের জন্ম ও বৈধ বলপ্রয়োগ
প্রথমেই একটি মৌলিক সত্য স্বীকার করতে হবে। রাষ্ট্রের জন্মই হয়েছে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য। রাজনৈতিক দার্শনিক থমাস হবস তার বিখ্যাত সামাজিক চুক্তি তত্ত্বে বলেছিলেন, রাষ্ট্র না থাকলে মানুষের জীবন হয়ে পড়ে ‘isolitary, poor, nasty, brutish and short’। অর্থাৎ রাষ্ট্রহীন সমাজে শক্তিশালীরা দুর্বলদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে এবং বিশৃঙ্খলা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তাই মানুষ নিজেদের কিছু স্বাধীনতা রাষ্ট্রের হাতে অর্পণ করেছে, যাতে রাষ্ট্র আইন প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
রাষ্ট্রের সেই ক্ষমতা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো পুলিশ। পৃথিবীর কোনো দেশেই পুলিশকে কেবল পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। বরং পুলিশকে আইনসম্মত বলপ্রয়োগের বৈধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘Legitimate Use of Force’ বা বৈধ বলপ্রয়োগ।
বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ভেবার রাষ্ট্রকে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলেছিলেন, রাষ্ট্র হলো সেই প্রতিষ্ঠান যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মধ্যে বৈধ বলপ্রয়োগের একচেটিয়া অধিকার ধারণ করে। অর্থাৎ রাষ্ট্রই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যার পক্ষে আইনসম্মতভাবে শক্তি ব্যবহার করা বৈধ। আর সেই শক্তি ব্যবহারের দায়িত্ব বাস্তবে পালন করে পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বলপ্রয়োগ মানেই অমানবিকতা নয়
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। বলপ্রয়োগ মানেই অমানবিকতা নয়। বরং আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ অনেক ক্ষেত্রে মানবিকতারই অংশ। কারণ যখন একজন অপরাধী শত মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তখন তাকে থামানোই প্রকৃত মানবিকতা। একজন সন্ত্রাসী, ধর্ষক, ডাকাত বা খুনিকে অবাধে চলতে দেওয়া কখনো মানবিকতার পরিচয় হতে পারে না। বরং তা নিরপরাধ মানুষের অধিকারের প্রতি অবহেলা।
আধুনিক পুলিশবিজ্ঞানে ‘Use of Force Continuum’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা রয়েছে। এর অর্থ হলো, পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে শক্তি ব্যবহার করবে। প্রথমে মৌখিক নির্দেশনা, তারপর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা, এরপর প্রয়োজন হলে শারীরিক শক্তি এবং সর্বশেষ পর্যায়ে গুরুতর হুমকির ক্ষেত্রে অধিক শক্তি প্রয়োগ। অর্থাৎ বলপ্রয়োগ কখনোই প্রথম বিকল্প নয়, কিন্তু প্রয়োজন হলে এটি বৈধ এবং অপরিহার্য।
উন্নত দেশের উদাহরণ
বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর দিকে তাকালেও একই চিত্র দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা জাপান—সব দেশেই পুলিশকে বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব দেশের সরকার এবং জনগণ জানে যে কেবল নৈতিক অনুরোধের মাধ্যমে সব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
মানবাধিকার সূচকে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে থাকা ইউরোপের দেশগুলোতেও পুলিশ প্রয়োজনে জলকামান, লাঠি, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট কিংবা অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা ব্যবহার করে। যখন কোনো সহিংস জনতা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে, জননিরাপত্তা বিপন্ন করে অথবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতেই হয়।
বাংলাদেশের বাস্তবতা
বাংলাদেশের বাস্তবতাও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের দেশে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইন প্রয়োগ করতে গেলেই একটি অংশ সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা আইনকে চ্যালেঞ্জ করে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়।
উদাহরণ হিসেবে মহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়টি উল্লেখ করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন যে এসব যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। আইন অনুযায়ী এসব যানবাহনের অনেকগুলোর মহাসড়কে চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু যখন আইন প্রয়োগ করতে যাওয়া হয়, তখন অনেক সময় সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ দেখা যায়।
এখানে রাষ্ট্র কী করবে? আইনের প্রয়োগ বন্ধ করে দেবে? না কি জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে? একটি সভ্য রাষ্ট্র কখনোই আইন অমান্যকারীদের চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারে না। কারণ রাষ্ট্র যদি দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষই।
একইভাবে ধর্ষণ, ডাকাতি, সন্ত্রাসবাদ কিংবা সংগঠিত অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও বলপ্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। ধরুন, পাঁচজন চিহ্নিত ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ একটি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু স্থানীয় জনগণ প্রকৃত ঘটনা না জেনে পুলিশের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এ অবস্থায় পুলিশ যদি একেবারেই শক্তি ব্যবহার না করে, তাহলে কি অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে?
বাস্তবতা হলো, অনেক সময় আইন বাস্তবায়নের জন্য ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ ছাড়া বিকল্প থাকে না। তবে সেই শক্তি অবশ্যই হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় এবং পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মানবিকতার প্রকৃত অর্থ
এখানেই ‘মানবিকতা’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ নিহিত। মানবিকতা মানে অপরাধীকে অবাধে ছেড়ে দেওয়া নয়। মানবিকতা মানে হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার সময় নিরপরাধ মানুষের অধিকার রক্ষা করা। মানবিকতা মানে হলো অপরাধী গ্রেফতারের পর তাকে নির্যাতন না করা, তার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাকে ন্যায়বিচারের আওতায় আনা।
অনেক সময় একটি ভুল ধারণা প্রচার করা হয় যে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং মানবিকতা পরস্পরবিরোধী। বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উলটো। আইনের ন্যায্য প্রয়োগই প্রকৃত মানবিকতার ভিত্তি।
একজন খুনি যদি বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয় এবং আদালতের রায় অনুযায়ী তার দণ্ড কার্যকর করা হয়, তাহলে সেটি প্রতিশোধ নয়; বরং আইনের শাসনের প্রতিফলন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও মানবিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুলিশিংয়ের ইতিহাস ও নীতি
পুলিশিংয়ের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থার জনক হিসেবে পরিচিত স্যার রবার্ট পিল পুলিশ সম্পর্কে যে নীতিমালা দিয়েছিলেন, সেখানে জনগণের সম্মতি, জনআস্থা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও বলা হয়নি যে পুলিশ কখনো বলপ্রয়োগ করবে না। বরং তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইন বাস্তবায়নের জন্য পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে।
আসলে ‘মানবিক পুলিশিং’ এর ধারণাটি অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। মানবিক পুলিশিং বলতে বোঝায় জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার না করা, বৈষম্য না করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আইনের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করা। এর অর্থ এই নয় যে পুলিশ অপরাধী বা সহিংস গোষ্ঠীর সামনে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মনোবল
৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মনোবল নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। অতীতে কিছু ক্ষেত্রে পুলিশকে রাজনৈতিক বা অন্যায় উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন অবশ্যই হওয়া উচিত। কোনো সদস্য আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।
কিন্তু একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে যে কয়েকটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অপব্যবহারের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর বৈধ কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় না। যদি পুলিশ আইন প্রয়োগে অতিরিক্ত ভীত হয়ে পড়ে, যদি প্রতিটি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তারা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা গেছে, যখন অপরাধীরা বুঝতে পারে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছে, তখন অপরাধের হার বৃদ্ধি পায়। কারণ অপরাধীরা সবসময় শক্তিশালী ও কার্যকর রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভয় করে, দুর্বল রাষ্ট্রকে নয়।
ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান
তাই একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান প্রয়োজন। একদিকে পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে, অন্যদিকে আইনসম্মত বলপ্রয়োগের ক্ষমতাকে কার্যকর রাখতে হবে। এই দুইয়ের সমন্বয়ই আধুনিক গণতান্ত্রিক পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি।
আজকের পৃথিবীতে সফল পুলিশিংয়ের মন্ত্র হলো—‘Firm but Fair’। অর্থাৎ আচরণে ন্যায়সঙ্গত, কিন্তু আইন প্রয়োগে দৃঢ়। অপরাধীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুরতা নয়, আবার অপরাধের প্রতি দুর্বলতাও নয়।
সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে হবে। বলপ্রয়োগের উদ্দেশ্য কখনো প্রতিশোধ নয়; এর উদ্দেশ্য হলো আইন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
প্রকৃত মানবিকতা হলো নিরপরাধ মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদা রক্ষা করা। প্রকৃত মানবিকতা হলো অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা। প্রকৃত মানবিকতা হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আর সেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে যখন প্রয়োজন হয়, তখন আইনসম্মত, সীমিত ও পরিস্থিতি-অনুযায়ী বলপ্রয়োগ রাষ্ট্র ও পুলিশের একটি বৈধ এবং অপরিহার্য দায়িত্ব।
সুতরাং, মানবিকতা এবং বলপ্রয়োগকে পরস্পরের বিপরীত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং আইনসম্মত বলপ্রয়োগ, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি কার্যকর, আধুনিক এবং সত্যিকার অর্থে মানবিক পুলিশ ব্যবস্থা।
লেখক: ড. মো. রুহুল আমিন সরকার, অতিরিক্ত সুপার, সিআইডি পুলিশ



