মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে এক বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চরাঞ্চলে নিজেদের কথিত ভূমিদস্যু বাহিনী দিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হান্নান মৃধা ও আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সামছুদ্দিন মেম্বারের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চলের অন্তত ৫০টি অসহায় পরিবারের ফসলি জমি ইতোমধ্যে দখল করে নিয়েছে এই বাহিনী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা হলেও ভুক্তভোগীরা প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন। এ কারণে এলাকায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জমি দখলের ঘটনায় চরের এনায়েতপুর গ্রামের আজাহার শেখের ছেলে আতিয়ার হোসেন এলাকাবাসীর পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চরের শিকারপুর গ্রামের লাল মিয়া অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তনের পর সামছুদ্দিন মেম্বার তার ৯ বিঘা ফসলি জমি দখল করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, সামছুদ্দিন মেম্বার এলাকায় চাঁদাবাজি ও জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ড করেন। বিএনপির সভাপতি হান্নান মৃধাসহ প্রভাবশালীদের মদদে তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এনায়েতপুর গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী সোবহান খান জানান, গত ৩০ বছর ধরে তিনি ৫ বিঘা জমি চাষ করে আসছেন। তার দাবি, দুই বছর আগে সামছুদ্দিন মেম্বার জমিটি দখল করে নেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার হান্নান মৃধার কাছে বিচার দিলেও কোনো প্রতিকার পাননি। জমির সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
একই গ্রামের শেখ তাইজুদ্দিন অভিযোগ করেন, হান্নান মৃধার বাহিনীর সদস্য সামছুদ্দিন মেম্বার, জাহাঙ্গীর শিকদার, মোহাম্মদ আলী ও আওয়াল শিকদার জোরপূর্বক তার দুই একর জমি দখল করেছেন। ভুক্তভোগী মুন্নাফ জমাদ্দার বলেন, একটি জমি কেনার পর সরকার পরিবর্তনের সুযোগে জাহাঙ্গীর শিকদার তা দখল করে নেন। পরে বিচার চাইতে গেলে মোহাম্মদ আলী তার কাছে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এনায়েতপুর গ্রামের মতিয়ার অভিযোগ করে বলেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি কলাবাগান করে সংসার চালান। ৫ আগস্টের পর সামছুদ্দিন মেম্বার, জাহাঙ্গীর শিকদার, আওয়াল শিকদার ও মোহাম্মদ আলী তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সময়মতো চাঁদা না দেওয়ায় তারা তার কলাবাগান কেটে ফেলেন এবং একটি ট্রলার ভেঙে পুকুরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে সামছুদ্দিন মেম্বার বলেন, সরেজমিন এসে তদন্ত করে সংবাদ করুন। তিনি দাবি করেন, যারা অভিযোগ করছেন তারা আওয়ামী লীগের লোক এবং এটি আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র।
হরিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হান্নান মৃধা বলেন, সামছুদ্দিন মেম্বার তার লোক নয়। তারা বিএনপির কর্মী হতে পারেন, তবে জমি দখলের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি দাবি করেন, জমি দখল করেছে আওয়ামী লীগের নেতারা।
প্রতিকারের পথ
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির মুখপাত্র অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার বলেন, কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) ফাহিম আসজাদ বলেন, যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, তাই তাদের কাছে চিঠি এলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



