লক্ষ্মীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারামারি মামলায় দেড় বছরের শিশুসন্তানসহ কারাগারে যাওয়া ফারহানা আক্তার অবশেষে জামিন পেয়েছেন। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শাহ জামাল তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফারহানা আক্তারের আইনজীবী মহসিন কবির।
আইনজীবীর বক্তব্য
আইনজীবী মহসিন কবির জানান, আজ সকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে ফারহানা আক্তারের জামিনের আবেদন করা হলে দুপুরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার এজাহারে বাদী দাবি করেছিলেন যে, তার মাথা ফেটে মগজ বের হয়ে গেছে। শুনানিতে আইনজীবী যুক্তি দেখান যে, মগজ বের হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির পক্ষে আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলা করার শারীরিক সক্ষমতা থাকার কথা নয়। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে বিকেল চারটার দিকে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।
ঘটনার পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকার ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে আফতাব উদ্দিন ভূঁইয়ার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এর জেরে গত ৯ এপ্রিল আফতাব ও তার সহযোগীরা ইসমাইলের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় ইসমাইলের পরিবারের নারী সদস্যদেরও মারধর করা হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এই হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গ্রেপ্তার ও পাল্টা মামলা
পরবর্তীতে ইসমাইল হোসেনের করা মামলায় ১৪ এপ্রিল পুলিশ আফতাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এর পরদিন ১৫ এপ্রিল আফতাবের ভাই মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া পাল্টা মামলা করেন, যেখানে ফারহানা আক্তারসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। গত সোমবার ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত ফারহানা আক্তার ও জহির উদ্দিন নামের দুই আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পরিবারের অবস্থা
ফারহানা আক্তারের স্বামী ইসমাইল হোসেন জানান, তাদের তিনটি সন্তানের মধ্যে দেড় বছর বয়সী ছোট ছেলেটি মায়ের সঙ্গেই কারাগারে ছিল। স্কুলপড়ুয়া অপর দুই সন্তান বাড়িতে একা থাকায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। মায়ের জামিনের খবরে পরিবারটিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া স্বীকারোক্তি
অন্যদিকে, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া তাঁর এজাহারের অসংগতি স্বীকার করে জানান, শুরুতে তিনি মাথায় বড় ধরনের আঘাত পাওয়ার কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, তার মাথা ফেটে মগজ নয়, বরং চর্বি বেরিয়েছিল। এই স্বীকারোক্তি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।



