সোশ্যাল মিডিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে জেনারেশন জেডের খবরের প্রাথমিক উৎস হিসেবে ঐতিহ্যবাহী সংবাদ ওয়েবসাইটকে ছাড়িয়ে গেছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ জার্নালিজমের একটি নতুন গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভূদৃশ্যকেও প্রভাবিত করছে।
গবেষণার মূল ফলাফল
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮-২৪ বছর বয়সীরা ক্রমশ সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিগত কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছ থেকে খবর নিচ্ছে, সরাসরি সংবাদ ওয়েবসাইট বা টেলিভিশন দেখার পরিবর্তে। ২০১৫ সালে ৩৬% তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক সংবাদ ওয়েবসাইট বা অ্যাপকে প্রধান খবরের উৎস বললেও ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে ২৪% হয়েছে। অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রধান উৎস বলা তরুণের সংখ্যা ২১% থেকে বেড়ে প্রায় ৪০% হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ যুব নেতৃত্ব কেন্দ্র (বিওয়াইএলসি) পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৪% তরুণ সরাসরি সাক্ষাৎকারে এবং ৮৪% অনলাইন উত্তরদাতা সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরশীল, যেখানে ফেসবুক শীর্ষস্থানে রয়েছে, তারপর ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং টিকটক। বিওয়াইএলসির গবেষণা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাপক মো. আবুল খায়ের শাজিব বলেন, জরিপটি তরুণ বাংলাদেশিদের পরিবর্তনশীল তথ্য অভ্যাস প্রতিফলিত করে।
স্বতন্ত্র কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের প্রভাব
গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফল হলো স্বতন্ত্র কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ক্রমবর্ধমান প্রভাব। ১৮-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫১% বলেছেন তারা সোশ্যাল ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে খবর ক্রিয়েটরদের প্রতি বেশি মনোযোগ দেন, যেখানে ঐতিহ্যবাহী সংবাদ সংস্থার প্রতি মনোযোগ দেন ৩৯%। গবেষকরা বলছেন, ব্যক্তিত্ব-চালিত কন্টেন্ট, সত্যতা এবং কথোপকথনমূলক স্টোরিটেলিং তরুণদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
এআই-এর ভূমিকা
প্রায় ১৫% তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক সাপ্তাহিকভাবে খবর বোঝার জন্য এআই টুল বা চ্যাটবট ব্যবহার করে, যেখানে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩%। অনেকে জটিল গল্প সহজ করার জন্য এআই ব্যবহার করে, তবে এটি জার্নালিজমকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করে না।
গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ
গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১৪% তরুণ সরাসরি প্রকাশকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে গিয়ে খবর পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়াই এখন প্রধান প্রবেশদ্বার। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি দর্শকদের সাথে ব্র্যান্ডের সরাসরি সম্পর্ক দুর্বল করে এবং প্রকাশকদের প্রযুক্তি কোম্পানি ও অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। বাংলাদেশের সংবাদ শিল্পের জন্য এ চ্যালেঞ্জ গুরুতর, যেখানে প্রকাশকরা ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া দর্শকদের বিশ্বস্ত পাঠকে রূপান্তর করতে সংগ্রাম করছে।
উপসংহার
রয়টার্স ইনস্টিটিউট উপসংহারে বলেছে, জার্নালিজমের ভবিষ্যৎ কেবল তরুণদের অনলাইনে যেখানে সময় কাটায় সেখানে পৌঁছানোর ওপর নয়, বরং এমন কন্টেন্ট তৈরি করার ওপর নির্ভর করে যা তারা প্রাসঙ্গিক, আকর্ষণীয় এবং ফিরে আসার মতো মনে করে।



