তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে সৃষ্ট গুজব, ভুল তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাফ্যাক্টের ভূমিকা
মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) তাদের ‘বাংলাফ্যাক্ট’ ফ্যাক্ট-চেকিং ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস উদ্যোগের মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত বাংলাফ্যাক্ট ৮৬০টি ফ্যাক্ট-চেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি
দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মশালায় ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। এআই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে।
ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্তকরণ
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, বাংলাফ্যাক্ট নিয়মিতভাবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপের পাশাপাশি ভুল তথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইট ও অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবি যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ম্যানুয়াল’ প্রকাশের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো
জাতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত রেখে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গুজব, ভুল তথ্য ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



