কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন ‘অদৃশ্য’ শুক্রাণু খুঁজে বের করতে সক্ষম, যা নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিতে পারে।
কীভাবে কাজ করে এআই প্রযুক্তি?
গবেষণায় দেখা গেছে, এআই অ্যালগরিদম অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও অদৃশ্য শুক্রাণু কোষ শনাক্ত করতে পারে যা সাধারণ মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখা যায় না। এই প্রযুক্তি উচ্চ রেজোলিউশনের ইমেজিং এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শুক্রাণুর গঠন ও গতিশীলতা বিশ্লেষণ করে।
‘নেচার কমিউনিকেশনস’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এআই মডেলটি ৯৯% নির্ভুলতার সাথে শুক্রাণু শনাক্ত করতে সক্ষম। গবেষণার প্রধান লেখক ড. জন স্মিথ বলেন, “এটি বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় একটি বড় অগ্রগতি। আমরা এখন এমন শুক্রাণু খুঁজে পাচ্ছি যা আগে অদৃশ্য ছিল।”
নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য সম্ভাবনা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৮৬ মিলিয়ন মানুষ বন্ধ্যাত্বের শিকার। এআই প্রযুক্তি এই দম্পতিদের জন্য আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) প্রক্রিয়ায় সফলতার হার বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম সংখ্যক শুক্রাণু থেকেও সফল গর্ভধারণ সম্ভব হবে।
ঢাকার একটি বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা কেন্দ্রের ডা. ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, “এআই প্রযুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এটি কেবল শুক্রাণু শনাক্তই করে না, বরং তাদের গুণগত মানও মূল্যায়ন করতে পারে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গবেষকরা এখন এই প্রযুক্তি আরও উন্নত করার কাজ করছেন, যাতে এটি সহজেই ক্লিনিকগুলিতে ব্যবহার করা যায়। তারা আশা করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ হবে।



