বরিশালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার এক ব্যক্তির ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে সম্পাদনা করে আর্জেন্টিনার জার্সির জায়গায় ব্রাজিলের জার্সি বানিয়ে সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়েছেন পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। এ ঘটনায় বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় এসআই তানজিল আহমেদকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। একই সঙ্গে তাঁকে বিএমপির মিডিয়া সেল এবং সাংবাদিকদের জন্য পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে নগরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর কলোনি এলাকায় অভিযান চালায় কাউনিয়া থানা-পুলিশ। সেখান থেকে ৮০০টি ইয়াবাসহ রাসেল হাওলাদার (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, রাসেল ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারিদের একজন।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজীত চন্দ্র নাথ জানান, গ্রেপ্তারের সময় রাসেলের গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি ছিল। পরে ছবি তোলার সময় নিয়ম অনুযায়ী তাঁর জার্সিটি উল্টো করে পরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ছবি বিএমপির মিডিয়া সেলে পাঠানো হয়েছিল।
এআই সম্পাদনা ও বিতর্ক
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছবি হাতে পাওয়ার পর মিডিয়া সেলে দায়িত্বে থাকা এসআই তানজিল আহমেদ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তিনি ছবিটি ডিজিটালভাবে সম্পাদনা করে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিবর্তন করে রাসেলকে ব্রাজিল দলের জার্সি পরিয়ে দেন। পরে সেই পরিবর্তিত ছবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে ই-মেইলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এমনকি বিএমপির সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও সেটি শেয়ার করা হয়।
ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের নজরে আনলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বিকৃত ছবিটি প্রত্যাহার করা হয়। এরপর প্রকৃত ছবি যুক্ত করে নতুন করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আশিক সাঈদ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত এসআই তানজিল আহমেদকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তাঁর জবাব পাওয়ার পর বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত এসআই তানজিল আহমেদ ছবি পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফুটবল নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের উন্মাদনা ও আগ্রহের কথা বিবেচনায় নিয়ে তিনি কৌতূহলবশত এটি করেছেন। তবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এটি ‘গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ’। এ কারণে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে শোকজ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



