চট্টগ্রামে ফ্রিল্যান্সার কার্ড রেজিস্ট্রেশনের যাত্রা শুরু হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার ফায়সাল আলিমের মতে, এই কার্ড ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় সংকট দূর করবে। এখন তারা গর্ব করে বলতে পারবেন, 'আমি দেশের একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা এবং এটা আমার রাষ্ট্রীয় পরিচয়।'
ফ্রিল্যান্সার কার্ডের সুবিধা
ফায়সাল আলিম বলেন, আগে ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকে আয়ের উৎস বা পেশার প্রমাণ দিতে পারত না, ফলে ক্রেডিট কার্ড বা ঋণ পাওয়া দুরূহ ছিল। এখন এই আইডি কার্ডের মাধ্যমে তারা ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটির দূরত্ব কমবে। পাসপোর্ট বা ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও 'পেশা' হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং প্রমাণের জন্য এটি অকাট্য নথি হবে।
চট্টগ্রামে উদ্বোধন
আজ চট্টগ্রাম বিভাগে উদ্বোধনের মাধ্যমে ঢাকার বাইরের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে এই সুবিধার আওতায় আনা হলো। ফায়সাল আলিম বলেন, চট্টগ্রাম এখন শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, ডিজিটাল প্রতিভারও বড় হাব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন তরুণদের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন।
ফায়সাল আলিম বলেন, সরকার যখন ভূমি মন্ত্রণালয় বা পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়, তখন বোঝা যায় প্রযুক্তির হাওয়া প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে গেছে। প্রধানমন্ত্রী তরুণদের ইনোভেশন ও এন্টারপ্রেনিউরশিপে ইতিবাচক। সুন্দর প্রযুক্তিভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে ফ্রিল্যান্সারদের বাদ দিয়ে ভাবা যাবে না, সরকারের উপস্থিতি ও সমর্থন সেটাই প্রমাণ করে।
কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া
ফায়সাল আলিম জানান, প্রক্রিয়াটি সহজ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের নির্দেশিকা অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করা যাবে। নির্দিষ্ট আয়ের প্রমাণ বা কাজের পোর্টফোলিও জমা দিলে ভেরিফিকেশন শেষে কার্ড দেওয়া হবে। তিনি নতুনদের বলেন, কার্ডের পেছনে ছোটার আগে কাজ শিখুন, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করুন। দক্ষতা ও সততা থাকলে কার্ড অধিকার হিসেবে পৌঁছাবে।
ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ
ফায়সাল আলিম বলেন, বৈশ্বিক বাজারে ডিজিটাল সার্ভিসের চাহিদা বাড়ছে। এআই বা নতুন প্রযুক্তির যুগে তরুণেরা সঠিক দিকনির্দেশনা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলে বিশ্ব জয় করবে। ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড সেই সম্ভাবনার দরজার চাবি। এটি যত বেশি ফ্রিল্যান্সারের হাতে পৌঁছাবে, অর্থনীতিতে বৈধ পথে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়বে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত হবে এবং তরুণেরা ফ্রিল্যান্সিংকে ফুলটাইম ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে। তার স্বপ্ন, একদিন বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে অন্তত একজন করে দক্ষ ডিজিটাল পেশাজীবী তৈরি হবে।
ফ্রিল্যান্সার সামিটের ঘোষণা
ফায়সাল আলিম বিপিও সামিটে আরেকটি বড় ঘোষণা দিয়েছেন—একটি 'ফ্রিল্যান্সার সামিট' আয়োজন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে ফ্রিল্যান্সার সামিট আয়োজন করা হবে। মূল লক্ষ্য তরুণসমাজকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া ও উপার্জনের সক্ষমতা জোরালো করা। প্রাথমিক পরিকল্পনা রাজশাহী বিভাগ থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগে ছড়িয়ে দেওয়া। সফল ফ্রিল্যান্সার ও নতুন আগ্রহীদের সবার জন্য অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। এটি অভিজ্ঞ ও নতুনদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং, নলেজ শেয়ারিং ও নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের প্ল্যাটফর্ম হবে। শিগগিরই বিস্তারিত সময়সূচি ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা হবে।



