চীনের নিও চিপ: বাণিজ্যিক অনুমোদন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি
চীন বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অনুমোদিত ইনভেসিভ ব্রেইন-কম্পিউটার চিপ 'নিও' (NEO)-র অনুমোদন দিয়েছে। এই চিপটি সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং নিউরাকল টেকনোলজির যৌথ উদ্যোগে তৈরি, এবং চীনের ন্যাশনাল মেডিকেল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মার্চ মাসে বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে।
নিও চিপ কীভাবে কাজ করে?
নিও চিপটি মুদ্রার সমান আকৃতির এবং এটি মস্তিষ্কের ডুরা ম্যাটারের ওপর ৮টি ইলেকট্রোড সেন্সর স্থাপন করে। এই সেন্সরগুলো মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক সংকেত সংগ্রহ করে একটি কম্পিউটারে পাঠায়, যা সংকেতগুলোকে নির্দেশে রূপান্তর করে রোগীর হাতে পরা সফট রোবটিক গ্লাভস নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে রোগী শুধু চিন্তা করেই হাতের আঙুল নাড়াতে পারেন।
নিউরালিংকের তুলনায় সুবিধা
ইলন মাস্কের নিউরালিংকের 'N1' ইমপ্লান্টের তুলনায় নিও চিপ কম ইনভেসিভ। নিউরালিংক মস্তিষ্কের কর্টেক্সে ইলেকট্রোড স্থাপন করে, যেখানে নিও চিপ ডুরা ম্যাটারের ওপরেই থাকে, ফলে রক্তক্ষরণ ও টিস্যুর ক্ষতির ঝুঁকি কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিরাপদ ডিজাইনের কারণেই চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো দ্রুত অনুমোদন দিয়েছে।
রোগীর সাফল্যের গল্প
চীনের হেনান প্রদেশের ৩৯ বছর বয়সী ডং হুই ছয় বছর আগে গাড়ি দুর্ঘটনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ জানিয়েছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে তার মস্তিষ্কে নিও চিপ স্থাপন করা হয়। প্রায় এক বছর রিহ্যাবিলিটেশনের পর, গত অক্টোবরে তিনি রোবটিক গ্লাভসের সাহায্যে কলম ধরে নিজের নাম লিখতে সক্ষম হন। ডং হুই এই মুহূর্তটিকে আবেগঘন ও অবিশ্বাস্য বলে বর্ণনা করেছেন।
চীনের কৌশলগত লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ
চীন তাদের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেসকে কৌশলগত প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এই দশকের শেষে বিশ্বনেতা হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাণিজ্যিক অনুমোদনের পর নিও চিপকে চীনের স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে এই চিকিৎসা পেতে পারে।
অন্যান্য চীনা উদ্যোগ
সাংহাই-ভিত্তিক নিউরোএক্সএস একটি প্রযুক্তি নিয়ে ট্রায়াল চালিয়েছে, যেখানে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার কার্সার ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন। প্রতিষ্ঠানটি একটি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করেছে যা রোগীর মস্তিষ্কের সংকেত পড়ে রিয়েল-টাইমে ম্যান্দারিন ভাষায় ডিকোড করতে পারে, প্রতি মিনিটে প্রায় ৩০০ ক্যারেক্টার গতিতে। এটি কথা বলার ক্ষমতা হারানো মানুষের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।



