ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরা চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মামলা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
এআই ক্যামেরা সম্প্রসারণ
ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীতে আগে ১৫টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা ছিল। আজ আরও চারটি যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে মোট ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মহানগরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও এ ধরনের ক্যামেরা বসানো হবে।
লেক রোডে এআই ক্যামেরা উদ্বোধন
আজ দুপুরে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান–সংলগ্ন লেক রোডে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা দায়ের ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ডিএমপির ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লেক রোডের গুরুত্ব ও ঝুঁকি
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, জিয়া উদ্যান ও জাতীয় সংসদ-সংলগ্ন লেক রোড জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ক্রসিং ও উড়োজাহাজ ক্রসিংকে যুক্ত করেছে। এটি মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক। অবস্থানগত গুরুত্বের কারণে সড়কটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টনী ও ভিভিআইপি মুভমেন্ট জোনের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক পথচারী ও প্রাতর্ভ্রমণকারী এই এলাকায় চলাচল করেন।
সড়কটির প্রশস্ততা ও অবস্থানগত বৈশিষ্ট্যের কারণে চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোসহ অযথা লেন পরিবর্তনের প্রবণতা দেখা যায় বলে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঝুঁকি কমাতে ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে লেক রোডে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
এআই ক্যামেরার কার্যপ্রণালী
লেক রোডে স্থাপিত এআই ক্যামেরা সরাসরি ডিএমপির কমান্ড সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত বলে জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো যানবাহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে, বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন করলে, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে, অবৈধ পার্কিং করলে বা যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা শনাক্ত করবে। এরপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে ই-প্রসিকিউশন বা মামলা হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই পদ্ধতিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশকে সড়কে দাঁড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন থামিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে না।
মামলা নিষ্পত্তি ও জরিমানা প্রক্রিয়া
এআই ক্যামেরায় মামলা প্রসঙ্গে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইলে বার্তা পাঠানো হবে। পাশাপাশি ডাকযোগেও মামলার কাগজপত্র গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পাঠানো হবে।
মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, জরিমানার অর্থ ট্রাফিক অফিসে জমা হওয়ার পর তা সিস্টেমে যুক্ত হয়। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় করা প্রায় ৩৮ হাজার মামলা (সমন) এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে শুধু ডিএমপির পক্ষে এককভাবে রাজধানী থেকে অটোরিকশা সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।



