২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রোমানিয়ার ১০০টির বেশি হাসপাতালে একযোগে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালায় হ্যাকাররা। হিপোক্রেটিস নামক একটি বহুল ব্যবহৃত মেডিক্যাল সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যাকমাইডাটা র্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে দিয়ে তারা ফাইল লক করে দেয়। মুক্তিপণ হিসেবে তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনে ১ লাখ ৬০ হাজার ইউরো দাবি করে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত
বুখারেস্টের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের প্রধান ড্যান চিম্পিয়ান নির্দেশ দেন সব হাসপাতাল ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করতে। এই পদক্ষেপে হ্যাকারদের গতি থমকে গেলেও বন্ধ হয়ে যায় ই–মেইল, ব্রাউজার ও সব ডিজিটাল যন্ত্র।
সার্জন ওয়ানা গোইডেস্কু বুজাউ হাসপাতালের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, 'এটি বেশ অপ্রীতিকর এক অভিজ্ঞতা ছিল। কারণ, একটি আইটি রেকর্ড মানে শুধু রোগীদের তালিকা নয়; প্রত্যেক রোগীর জন্য ল্যাব টেস্ট, রেডিওলজি, ওষুধ এবং সরবরাহের হিসাব থাকে। তার সবকিছুই মুহূর্তের মধ্যে হাওয়া হয়ে গিয়েছিল।'
অফলাইন পদ্ধতিতে চিকিৎসা
ক্যারল ডাভিলা হাসপাতালের ভ্লাদ পাইক জানান, সিস্টেম দ্রুত মেরামত হবে না বুঝতে পেরে তাঁরা দ্রুত একটি অফলাইন পদ্ধতি তৈরি করেন। ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট কাগজে আনা শুরু হয় এবং রোগীর যত্ন যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য এক্সেল ও অন্যান্য অফলাইন টুল ব্যবহার করা হয়।
সফল পুনরুদ্ধার
টানা চার দিনের যুদ্ধ শেষে বিভিন্ন হাসপাতালের আইটি টিম ব্যাকআপ ডেটা ব্যবহার করে সিস্টেমগুলো পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় কোনো রোগীর মৃত্যু বা বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। রোমানিয়া সরকার হ্যাকারদের এক পয়সাও না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাইবার অপরাধীদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু হলো স্বাস্থ্য খাত। যুক্তরাজ্য ও আমেরিকার বড় বড় হাসপাতালেও একই ধরনের হামলা হয়েছে, যেখানে একটি হ্যাকিংয়ের কারণে রোগীর মৃত্যুর নজিরও রয়েছে। ড্যান চিম্পিয়ান বলেন, 'আপনার যত বেশি প্রযুক্তি থাকবে, আপনি যত বেশি ডিজিটালাইজড হবেন, আপনার ঝুঁকিও ততটাই বাড়বে।' রোমানিয়ার এই কাগজ-কলম নীতি ও দ্রুত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার কৌশলটি এখন বিশ্বজুড়ে দুর্যোগ পরিকল্পনাকারীদের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে পড়া হচ্ছে।



