সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর সরকার: শিল্পমন্ত্রী
সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০% উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর সরকার

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র, কুটির, মাইক্রো, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং এই শিল্পখাতের দ্রুত সম্প্রসারণে কোনো ধরনের স্থবিরতা বরদাশত করা হবে না।

বিসিক কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা

একই সঙ্গে চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্ম-প্রস্তাবনা জমা দিতে বিসিক কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিসিক ভবনে পাঁচ দিনব্যাপী ‘বিসিক বর্ষা মেলা-২০২৬’ এবং ‘জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক শিল্পনগরীসমূহের অবদান ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালার যৌথ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সিএমএসএমই খাতের ভূমিকা

শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। শিল্প খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য চলমান ও নতুন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্ম-প্রস্তাবনা জমা দিতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিসিক চেয়ারম্যানের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বিগত ৬৯ বছরে বিসিকের অর্জন, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিসিক শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের বাস্তব রূপ। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমেই সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবেশবান্ধব শিল্প পার্ক ও কর্মপরিকল্পনা

আগামী দিনে পরিবেশবান্ধব নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন এবং বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দিচ্ছে বিসিক। এছাড়া অনাবাদী প্লটের শতভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করা এবং ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ ধারণার বিকাশসহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে চেয়ারম্যান জানান।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। দেশিয় ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে মেলা ও কর্মশালা দুটি বিসিকের সার্বিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বিসিক বর্ষা মেলা

বাংলার বর্ষার স্নিগ্ধতা, ঐতিহ্য এবং দেশিয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বৈচিত্র্যকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ৫ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এই মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের জামদানি, মণিপুরী শাড়ি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, হস্তশিল্প, চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্যসহ মোট ৫৬টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।