শাহজালাল বিমানবন্দরে চার ইডিএস স্ক্যানারের তিনটি বিকল, রপ্তানি সংকট
শাহজালাল বিমানবন্দরে ইডিএস স্ক্যানার সংকট

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চারটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেমস (ইডিএস) স্ক্যানারের মধ্যে তিনটি বিকল রয়েছে। এতে রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মাত্র একটি স্ক্যানার সচল থাকায় রপ্তানি পণ্যের স্ক্যানিং ও খালাসে বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রপ্তানি খাতের ব্যবসায়ীরা।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও আকাশপথে রপ্তানি চাপ

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলোর নির্ধারিত সময়সীমা মেনে পণ্য পাঠাতে এখন আকাশপথে রপ্তানির চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে স্ক্যানার–সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, দুটি স্ক্যানার ১ বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে আছে। গত মাসে আরেকটি স্ক্যানারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ত্রুটি দেখা দেওয়া স্ক্যানারটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। ২৫ মে নাগাদ সেটি চালু হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্ক্যানার–সংকটের কারণে রপ্তানি পণ্য স্ক্যানিং করতে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করে স্ক্যানিং কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে। গতকাল রোববারও প্রায় ৮২০ টন রপ্তানি পণ্য স্ক্যান করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) জেষ্ঠ্য সহসভাপতি সৈয়দ মো. বখতিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, চারটি ইডিএস স্ক্যানারের মধ্যে তিনটি নষ্ট থাকায় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা সমস্যা হচ্ছে। কার পণ্য আগে, কারটা পরে স্ক্যানিং হবে, সেটার জন্য হুড়োহুড়ি লেগে যায়। সময়মতো স্ক্যানিং করাতে না পারায় অনেক সময় ফ্লাইট মিস হয়ে যায়। তাঁর দাবি, স্ক্যানিং যন্ত্র নষ্ট থাকায় বিদেশে পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এই সুযোগ নিয়ে অসাধু কোনো কোনো কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা দাবি করছেন।

প্রতিদিনের পণ্য পরিবহন ও ফল রপ্তানি

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টন পণ্য শাহজালাল বিমানবন্দরে আনা হচ্ছে, যার বেশির ভাগ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। ব্যস্ত মৌসুমে এসব পণ্যের পরিমাণ বেড়ে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ২০০ টনে পৌঁছায়। আবার রপ্তানির চাহিদা কম থাকলে এই পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ টনে নেমে আসে। পণ্যের পাশাপাশি এখন বিভিন্ন দেশে আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল রপ্তানি করা হচ্ছে। সেগুলোও স্ক্যান করতে হয়। দ্রুত স্ক্যানারগুলো সচল করা না গেলে পণ্য ও ফল রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ঝামেলার মধ্যে পড়বেন।

স্ক্যানিং ব্যবস্থার ধরন

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ইডিএস স্ক্যানিং বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ ইউরোপের বাইরের গন্তব্যের পণ্য ‘নন-আরএ৩’ স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। এ ধরনের ছয়টি স্ক্যানারের মধ্যে তিনটি সচল, একটি বিকল এবং দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরক শনাক্তকারী কুকুর (ইডিডি) স্কোয়াডের ব্যবহার বাড়িয়েছে।