মার্চের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স ১৯২ কোটি ডলার, প্রবাসী আয়ে ঈদের প্রভাব
মার্চে রেমিট্যান্স ১৯২ কোটি ডলার, প্রবাসী আয়ে ঈদের প্রভাব

মার্চের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে ঈদের প্রভাব

চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে এসেছে ১৯২ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক সংকেত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

বছরব্যাপী প্রবাসী আয়ের প্রবণতা

গত বছরের মার্চের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৩৩ কোটি ডলার, অর্থাৎ বছর ব্যবধানে প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪০ ডলার, যা বছর ব্যবধানে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের আত্মীয়-স্বজনদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন, যা এই বৃদ্ধির মূল কারণ।

মাসিক রেমিট্যান্সের রেকর্ড ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ

এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জানুয়ারি মাসে এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স। গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার, যা চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, গত নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতের প্রবাসী আয়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইতিহাসে সর্বোচ্চ অর্থবছরীয় রেমিট্যান্স

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত। এই প্রবণতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করছে, যদিও বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।