বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সবেমাত্র শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১২ কোটি ডলার, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর ধারাবাহিক উচ্চ প্রবাহের অংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ২৭৫ কোটি ডলার। সে অনুযায়ী, বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বাজার মূল্যে রেমিট্যান্সের পরিমাণ
বর্তমান বাজার মূল্যে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এপ্রিল মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩৭৫ কোটি ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল ২০২৫ সালের মার্চ মাসে, যখন এসেছিল ৩২৯৫৬ কোটি ডলার। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩২৬৬ কোটি ডলার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতামত
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আইনি চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।



