সরকার ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সাধারণ ভোক্তারা সেই সুফল পাচ্ছেন না। গত ২ জুলাই থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হলেও উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তারও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি মূল্য নির্ধারণ ও বাস্তবতা
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা, যা আগের দামের তুলনায় প্রায় ৩০০ টাকা কম। কিন্তু মাধবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় দোকানে এখনো আগের দামেই গ্যাস বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অধিকাংশ মানুষ রান্নার কাজে এই গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভোক্তাদের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকির অভাবে ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি মূল্য নির্ধারণের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা আমির আলী বলেন, “সরকারের দাম কমানোর খবর শুনে কয়েকটি দোকানে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও ১ হাজার ৮০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার বিক্রি করতে রাজি হয়নি। সরকার দাম কমিয়েছে জেনে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো সুফল পাচ্ছি না।”
মনতলা এলাকার ব্যবসায়ী সায়েত মিয়া বলেন, “দাম কমার খবরে আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখনো আগের দামেই কিনতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা কেউ মানছে না।”
খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য
খুচরা বিক্রেতারা দাবি করছেন, ডিলারদের কাছ থেকে তারা এখনো আগের দামেই গ্যাস কিনছেন। তাই বাধ্য হয়ে আগের দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, “আমাদের করার কিছু নেই। নতুন দামে এখনো এলপিজি সিলিন্ডার পাইনি। ডিলারের কাছ থেকে কম দামে পেলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব।”
ডিলারের অবস্থান
জগদীশপুরের ডিলার জজ মিয়া দাবি করেন, তিনি সরকার ঘোষিত নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছেন। তবে কোনো খুচরা বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে এর দায় তার নয় বলে তিনি জানান।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
মাধবপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকি আরও জোরদার করা হবে যাতে ভোক্তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি গ্যাস কিনতে পারেন।”
ভোক্তাদের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, বাজারে নিয়মিত অভিযান ও ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হলে সরকারি মূল্য বাস্তবায়ন হবে এবং সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবেন।



