আজ সোমবার সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পকে শুধু সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নয়; বরং একটি মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ প্রকল্পে থাকা যেসব ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সংশোধন করা হবে।
সোমবার সচিবালয়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনাবিষয়ক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সমাজকল্যাণসচিব মোহাম্মদ আবু ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব টাকা আগামী বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বর্তমান সরকারের দৃষ্টান্তমূলক প্রকল্প। এটি অগ্রাধিকার পাবে। প্রকল্পটি বৃহৎ পরিসরের উদ্যোগ হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে ছোটখাটো ভুল হতেই পারে। ভুলের পরিমাণ ১ শতাংশও নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে ইতিমধ্যে ৩৭ হাজারের বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কোথাও কেউ বাদ পড়েছে কি না, আবার কেউ ভুলভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সমস্যা বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিছু সমস্যা শনাক্ত করেছি। এগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে প্রকল্পটি আরও নির্ভুলভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।’
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, এ প্রকল্প নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে বাজেট বাধা হবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, যত বাজেট প্রয়োজন হবে, তত বাজেটই দেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগে মাসখানেক আগে আধা সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।



