ঈদুল আজহায় রাজধানীর পশুর হাট জমে উঠছে, বিক্রি বাড়ার আশা
ঈদুল আজহায় রাজধানীর পশুর হাট জমে উঠছে

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বসা অস্থায়ী পশুর হাটগুলো ধীরে ধীরে জমে উঠছে। ছোট, মাঝারি, বড় গরু, মহিষ, ষাঁড়, খাসি, উট নিয়ে হাজির হয়েছেন বিক্রেতারা। গরম ও বৃষ্টিতে বক্রি এখনও তেমন না জমলেও আগামী সোম ও মঙ্গলবার নাগাদ তা বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

উত্তরার বউবাজার হাট

রোববার (২৪ মে) রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ির বউবাজার হাট এবং তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠের হাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। উত্তরার দিয়াবাড়ির বউবাজার এলাকায় বিশাল হাট বসেছে। হাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই হাটে ৩০ হাজারের বেশি গরু উঠেছে। ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের গরু এখানে মিলছে।

এই হাটে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে ৩৬টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. জিয়াউর রহমান। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘গত বুধবার আসছি। এখনও একটাও বিক্রি হয়নি। কাল (সোমবার) আর মঙ্গলবার বিক্রি বাড়বে। রাখার জায়গা না থাকায় অনেকে শেষের দিকে কিনতে চায়।’ এর পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম এবং বৃষ্টিপাতের কারণে অনেকে হাটে আসছেন না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাটের ভেতরে গরুকে ঠান্ডা পানি স্প্রে করতে দেখা গেছে এক খামারিকে। মো. সাকিব হাসান নামের এই খামারি বলেন, ‘যা গরম পড়ছে, মানুষেরই তো মাথা ঠিক থাকে না। তাই গরুর মাথায় ঠান্ডা পানি স্প্রে করা হইতেছে।’ ক্রেতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চার দিন হইছে। ২৬টা গরু আনছি। আজকে একজন একটার দাম জিগাইছে শুধু। বেচা তো পরের কথা।’

এদিকে অতিরিক্ত গরমে হাটের ২ নম্বর হাসিল কাউন্টারের সামনে দুপুরে প্রায় ২০ মণ ওজনের একটি গরু হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় বলে জানান খামারিরা। এরপর মাঠেই জবাই করা হয় গরুটি। কান্নারত অবস্থায় গরুর মালিক মো. টিটন বলেন, ৫ লাখ টাকা দাম চাইছিলাম। কিন্তু আজকে দুপুরে হিট স্ট্রোকে মারা যাওয়ার আগে ১ লাখ ৬৫ হাজারে বেচতে হইছে। চুয়াডাঙ্গা থেকে একমাত্র এই গরু নিয়ে আসা টিটন আরও বলেন, ‘পরশুদিন আইছি। ১৮ মাস ধরে পালছি গরুটা। আমার ঈদটা মাটি হইয়া গেল।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাটের বিশেষ আকর্ষণ

বড় আকারের অসংখ্য গরু থাকলেও এই হাটের বিশেষ আকর্ষণ কালামানিক, রোনালদো, ও কিম জং উন। এই গরুগুলোসহ প্রায় ১০০টি মহিষ এনেছে নেদারল্যান্ডস ডেইরি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি ডা. সাকিব জানান, কিছু মহিষের ওজন ৬৮০ থেকে ১ হাজার কেজি পর্যন্ত। তিনি বলেন, কালামানিকের দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে রোনালদোর দাম ৭ লাখ। কিম জং উনের দাম ৪ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।

সাকিব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এখনও দর্শনার্থীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেলেও বিক্রি ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে। ক্রেতারা মূলত মহিষগুলো দেখতে আসছেন এবং কয়েকটি বিক্রিও হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। নামকরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একেক সময় যারা আলোচনায় থাকেন, তাদের একেকজনের নামে রাখা হয়েছে। বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপট নাই।’

তেজগাঁও পলিটেকনিক মাঠের হাট

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পলিটেকনিক মাঠের হাটেও দর্শনার্থীরা থাকলেও ক্রেতা কম। হাটের অধিকাংশ খামারিকে বসে, গল্প করে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। অনেকে গরুর খাবার তৈরি করছেন অথবা গরুর বর্জ্য পরিষ্কার করছেন। হাসিল ঘরে দায়িত্বরত কিংবা মাঠের ভলান্টিয়ারদেরও দেখা গেছে অনেকটা নিশ্চিন্ত।

এই হাটের বিশেষ আকর্ষণ বিশালাকার উট ‘মরুভূমির জাহাজ’। এই হাটে চারটি উট নিয়ে এসেছে যশোরের বেনাপোলের ফিরোজ আল মামুন ডেইরি ফার্ম। খামারের প্রতিনিধি মোহাম্মদ শান্ত মিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এরই মধ্যে ২৫ লাখ টাকায় একটি উট বিক্রি হয়েছে। তবে এত দামে বিক্রি করেও পোষাচ্ছে না বলে জানান তিনি। শান্ত মিয়া বলেন, উট আলু, গম, ভুট্টা, ছোলা ও ভুসি খায়। প্রতিটি উটের পেছনে দৈনিক খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা খরচ হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যে উট ৪ থেকে ৫ লাখ টাকায় পাওয়া যায়, বাংলাদেশে তা আনতেই অনেক খরচ হয়ে যায়। ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত ট্যাক্স দিতে হয়। দুই বছরের লালনপালন খরচ হিসাব করলে লাভ খুব কমই থাকে। এই হাটে আসা ক্রেতা নাজিবুর আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দু-তিন দিন ধরে বিভিন্ন হাটে গরু দেখছি, কিন্তু কোথাও বাজেটে মিলছে না। দাম এখনো অনেক বেশি চাচ্ছে। আরও দু-এক দিন দেখে কিনব।’