মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল আজহা। এবারের ঈদ আসতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। ইতিমধ্যেই পরিবার ও প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে মহাসড়কে বাসসহ গণপরিবহনের সংকট থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের যমুনা সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগর জলফৈ ও করটিয়া বাইপাস এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
অতিরিক্ত ভাড়ার নজির
জানা গেছে, যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অনেক যাত্রী খোলা ট্রাক ও পিকআপে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঈদ এলেই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচল করায় এই অঞ্চলে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
যাত্রীদের অভিযোগ
গার্মেন্টসকর্মী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বাইপেল থেকে টাঙ্গাইল আশেকপুর বাইপাস আসলাম ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে। স্বাভাবিক সময়ে ১০০ টাকায় আসি। শুধু আমার কাছে নয়, সবার কাছ থেকেই বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।’ আরেক যাত্রী জানান, ‘গাজীপুর থেকে আশেকপুর বাইপাস পর্যন্ত আসলাম ২০০ টাকা ভাড়া দিয়ে। ঈদের সময় বাসে আসলেই ভাড়া বেড়ে যায়। স্বাভাবিক সময়ে ৮০-১০০ টাকা লাগে। বেশি টাকা দিলেও দাঁড়িয়ে আসতে হয়।’ আশেকপুর বাইপাসে দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘আধাঘণ্টা ধরে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। যে গাড়ি আসে ভাড়া বেশি চাচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে ৩০০ টাকায় যেতাম, এখন ৫০০ টাকা চাচ্ছে।’
টোল ব্যবস্থাপনা ও পুলিশের বক্তব্য
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ সামলাতে এবং দ্রুত টোল আদায়ে মোটরসাইকেলের জন্য দুটি করে মোট ৪টি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে। সেতুর দুই প্রান্তে রেকার রাখা হয়েছে।’ এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানবাহনগুলো স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। এখন পর্যন্ত কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। মানুষ যাতে নিবিঘ্নে গন্তব্য পৌঁছাতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’



