ঈদযাত্রায় মহাখালী টার্মিনালে ভোগান্তি, ঘরমুখো মানুষের ভিড়
ঈদযাত্রায় মহাখালী টার্মিনালে ভোগান্তি, ঘরমুখো মানুষের ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটি শুরুর আগেই মহাসড়কে তীব্র যানজট ও টিকিট সংকট এড়াতে রোববার সকাল থেকেই মহাখালী বাস টার্মিনালে ভিড় জমাচ্ছেন যাত্রীরা। ভোর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্মিনালে যাত্রীদের চাপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। দুপুরের পর যাত্রীদের তুলনায় দূরপাল্লার বাসের সংখ্যা কম থাকায় অনেককে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে; তবে সব কষ্ট উপেক্ষা করে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দে মুখর সাধারণ মানুষ।

মহাখালী টার্মিনালে চিত্র

রোববার (২৪ মে) সরেজমিনে দুপুর ২টার পর মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, কাউন্টারগুলোর সামনে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বাসের তীব্র স্বল্পতার কারণে অনেক পরিবারকে মালপত্র নিয়ে টার্মিনালের ভেতরে ও প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাতায়াতের বিকল্প না থাকায় ভোগান্তি মেনে নিয়েই অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা

বগুড়াগামী যাত্রী আসলাম বলেন, এবার ট্রেনের টিকিট পাইনি। তাই বাসে যেতে হচ্ছে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। কষ্ট হলেও অপেক্ষা করে বাসেই যেতে হবে। তবে আগেভাগে রওনা হওয়ায় কিছুটা স্বস্তির কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। নেত্রকোনাগামী কলেজছাত্রী মুক্তা আক্তার জানান, প্রতি বছর ঈদের দুই-একদিন আগে বাড়ি যাই; কিন্তু এবার আগেই চলে যাচ্ছি। এবার বাসের টিকিট পেতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়াও দেওয়া লাগছে না। গত বছর দ্বিগুণ ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবহন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা

পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ সরকারি ও বেসরকারি অফিস খোলা থাকায় সকালের দিকে যাত্রীর চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া গেছে। তবে মূল চাপ তৈরি হবে অফিস ছুটির পর। অনন্যা পরিবহণের কাউন্টার ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর বলেন, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে, কোথাও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না। তবে আজ এখনো সরকারি অফিস খোলা আছে, এজন্য মনে হয় সকালের দিকে মোটামুটি চাপ রয়েছে। বিকালের দিকে অফিস ছুটির পর যাত্রীর চাপ ব্যাপকভাবে বাড়বে।

ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে এবং টিকিট কালোবাজারি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে টার্মিনাল এলাকায় কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মালিক সমিতির বক্তব্য

মহাখালী বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টার্মিনালের ভেতর-বাহিরে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেউ যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সেই বিষয়ে কমিটির সদস্যরা নজর রাখছেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন।

পুলিশের প্রস্তুতি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক গুলশান বিভাগের মহাখালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রাসেল রানা জানান, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবারের মতো এবারো আমরা আগাম প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি; যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স নিযুক্ত করা হয়েছে এবং অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও আমাদের লোকজন আছে যাতে অতিরিক্ত ভাড়া যেন না নিতে পারে। এছাড়া মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় যেন যানজট সৃষ্টি না হয়, সেজন্য বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

সার্বিক পরিস্থিতি

প্রতি বছরের মতো এবারও আকস্মিক যাত্রীর বাড়তি চাপ সামলাতে পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে টার্মিনাল এলাকার সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বিত তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এবারের ঈদযাত্রা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।