আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে বাজেট নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যক্তি পর্যায়ে করমুক্ত আয়সীমা ছয় লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রধান বিরোধী দলটি। বর্তমানে এই সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা। এ ছাড়া করপোরেট করহারও কমিয়ে গড়ে ১৯ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। তামাক ও মাদকের ওপর করহার অপরিবর্তিত রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে জিডিপির অনুপাতে কর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখছে না দলটি।
মতবিনিময় সভায় প্রস্তাবনা
আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। সভায় দলটির পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ডিন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
মূল প্রবন্ধে গুরুত্বারোপ
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলা হয়, জামায়াত বড় বাজেটের চেয়ে মানসম্মত ব্যয়ের প্রতি জোর দিচ্ছে। তা ছাড়া সামষ্টিক অর্থনৈতিক সুশাসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও অদক্ষতা দূর করা যাবে না। তাই দলটির পক্ষ থেকে বড় বাজেটের চেয়ে ছোট বাজেটের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভায় এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেন, ‘বেশি কর আহরণ কর্মসংস্থান কমায়। ব্যবসায় খরচ বাড়ায়। তখন বেশি আয় করতে হয়। তাই কর–জিডিপি বাড়ানোর প্রয়োজন নেই; বরং করের আওতা বড় করার কথা বলছি আমরা। অগ্রিম আয়করের অবসান চাই আমরা।’ এ সময় এনবিআর কর্মকর্তারা সরকারকে ভুল পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রণোদনা প্যাকেজের সমালোচনা
বর্তমান সরকারের বন্ধ কারখানা খোলার জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের সমালোচনা করেন এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। সরকারের চার কোটি ফ্যামিলি কার্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বাজেট কখনো লুটপাট কিংবা শোষণের হাতিয়ার হয়েছে। কিন্তু কখনো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়নি। বাজেটে ব্যয়ের বিলাসিতা দেখেছি আমরা। কিন্তু মানুষের উন্নতি হয়নি। আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে বেশি বরাদ্দের দাবি জানিয়েছি।’
বিশ্বব্যাংকের উদ্ধৃতি দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, শিক্ষায় সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া ১০ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ালে কর্মসংস্থান বাড়বে। রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাহীন দুর্নীতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। পাঁচজন করে ধরলেও ২০ কোটি মানুষ হয়। বাইরে টাকা পাচার করার জন্য এমন হিসাব করা হয়েছে কি না, প্রশ্ন জাগে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও একটা কার্ড পাবেন। তেলের মাথায় তেল দেওয়ার এসব পরিকল্পনা আমরা সময়মতো দেখব।’



