টানা তৃতীয়বার দেশসেরা চা-পাতা চয়নকারী জেসমিন আকতার
টানা তৃতীয়বার দেশসেরা চা-পাতা চয়নকারী জেসমিন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক জেসমিন আকতার টানা তৃতীয়বারের মতো দেশের শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী শ্রমিক হিসেবে জাতীয় চা পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিরল 'হ্যাটট্রিক' গড়লেন।

পুরস্কার বিতরণ

শনিবার (২০ জুন) ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।

অসাধারণ দক্ষতা

বাংলাদেশের ১৬৮টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে এবারও সেরা নির্বাচিত হয়েছেন জেসমিন। মাত্র ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা-পাতা তুলতে সক্ষম এই শ্রমিক গত এক বছরে মোট ২৬ হাজার ২১৭ কেজি চা-পাতা সংগ্রহ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জীবনযাত্রা

বর্তমানে ৫৮ বছর বয়সি জেসমিন আকতারের জন্ম কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। বিয়ের পর স্বামী আবদুল বারেকের সঙ্গে চলে আসেন ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানে। স্বামী ছিলেন বাগানের নৈশপ্রহরী। সংসারের অভাব দূর করতে বিয়ের মাত্র তিন মাস পরই চা-পাতা তোলার কাজে যোগ দেন তিনি। সেই শুরু। গত ৪২ বছর ধরে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন জেসমিন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং দ্রুতগতিতে পাতা তোলার কৌশলই তাঁকে এনে দিয়েছে দেশের সেরা চা-শ্রমিকের স্বীকৃতি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্ছ্বাস ও কৌশল

পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বসিত জেসমিন বলেন, দেশের সব চা-শ্রমিকের মধ্যে টানা তিনবার শ্রেষ্ঠ পাতা চয়নকারী নির্বাচিত হওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। একই বাগানের শ্রমিক উপলক্ষ্মী ত্রিপুরা এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরে তিনি গর্বিত বলেও জানান। সাফল্যের রহস্য সম্পর্কে জেসমিন বলেন, ভোর থেকেই কাজে নেমে পড়েন তিনি। কাজের সময় অলসতা বা অপ্রয়োজনীয় বিরতি এড়িয়ে চলেন। দ্রুততার সঙ্গে দুই হাত ব্যবহার করে আড়াই পাতি (দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি) সংগ্রহ করাই তাঁর মূল কৌশল। তাঁর ভাষায়, 'শুধু পরিশ্রম করলেই হয় না, কাজের কৌশলও জানতে হয়। সবাই পাতা তোলে, কিন্তু সবাই দেশসেরা হতে পারে না। দ্রুততার সঙ্গে বেশি পাতা তোলার দক্ষতাই আমাকে সফল করেছে।' জেসমিন জানান, এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৮ কেজি এবং দিনে প্রায় আড়াই শ কেজি পর্যন্ত চা-পাতা সংগ্রহ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

নেপচুন চা বাগানের গৌরব

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে দেশের চা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রায় ২ হাজার ৭০০ একরজুড়ে বিস্তৃত এই বাগান ২০০৯ সালে বৃক্ষরোপণে 'দেশসেরা চা বাগান' এবং ২০২০ সালে 'গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করে। নেপচুন চা বাগানের ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেসমিনের এই অর্জন শুধু নেপচুন চা বাগানের নয়, পুরো ইস্পাহানি পরিবার এবং ফটিকছড়ির মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়।