কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যার আশঙ্কা
কুড়িগ্রামে ধরলা নদীর পানি বাড়ছে, বন্যার শঙ্কা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রধান নদী ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববার (২১ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, ধরলা নদীর পানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখনও সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাত ও নদীর পানির উচ্চতা

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার সকাল ৬টায় তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার, যা সকাল ৯টায় কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে আসে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার। বিকেল ৩টায় শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি সমতল ২৯ দশমিক ৬৮ মিটার, যা বিপদসীমার ১১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কৃষকদের উদ্বেগ

হঠাৎ ধরলাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। তবে গতকালের চেয়ে রোববার বারোমাসিয়া নদীর পানি কমে যাওয়ায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পাট ও ভুট্টা ক্ষেতের পানি নেমে যাচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। ধরলা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চরসোনাইকাজী এলাকার বাসিন্দা জহুরুল হক ও ওবায়দুল হক জানান, গত চার দিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে আমন ধানের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই এলাকার কৃষক জরিতুল্লা আলী বলেন, “ধরলার পানি বৃদ্ধির কারণে আমার আমনের বীজতলা ও পাটক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বীজতলা নষ্ট হয়ে গেলে আমন চাষ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পানি আরও বাড়লে বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, “উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তাই তাৎক্ষণিক বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”