আগুন জ্বলার প্রক্রিয়া খুবই সহজ একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া। কোনো বস্তুর সঙ্গে অক্সিজেনের দহন বিক্রিয়া ঘটলেই আগুন জ্বলে ওঠে। এই বিক্রিয়ায় মৌল বা যৌগের মধ্যে তাপ উৎপন্ন হয়, যা দহন বিক্রিয়া নামে পরিচিত। দহনের জন্য প্রয়োজন হয় জ্বালানি, যা সাধারণত পদার্থের ভেতরে থাকা হাইড্রোজেন বা কার্বনের মতো মৌল সরবরাহ করে। পাশাপাশি, কোনো বস্তু জ্বালানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা প্রয়োজন। সেই তাপমাত্রায় পৌঁছালেই বস্তুতে আগুন জ্বলে ওঠে। যেমন, ম্যাচকাঠি দিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় কাঠি ও বক্সের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা উৎপন্ন হয় এবং আগুন সৃষ্টি হয়।
আগুনের প্রকারভেদ
আগুন প্রধানত পাঁচ ধরনের হতে পারে, যা তাদের দাহ্য পদার্থের প্রকৃতি অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে। এই পাঁচটি শ্রেণি হলো: ক্লাস এ, ক্লাস বি, ক্লাস সি, ক্লাস ডি এবং ক্লাস কে। প্রতিটি শ্রেণির আগুনের বৈশিষ্ট্য ও নির্বাপণের পদ্ধতি ভিন্ন।
ক্লাস এ
এই শ্রেণির আগুন সাধারণত কাগজ, কাঠ, কাপড়, আবর্জনা এবং প্লাস্টিকের মতো সাধারণ দাহ্য পদার্থ থেকে সৃষ্টি হয়। এগুলো শক্ত পদার্থের আগুন হিসেবে পরিচিত এবং জল দিয়ে নেভানো সহজ।
ক্লাস বি
ক্লাস বি আগুন জ্বালানি তেল, অ্যালকোহল, প্রোপেন এবং গ্যাসের মতো অতি দাহ্য তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ থেকে তৈরি হয়। এই ধরনের আগুন নেভাতে জল ব্যবহার করা বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এটি আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত ফোম বা কার্বন ডাই অক্সাইড নেভানোর যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
ক্লাস সি
এই শ্রেণির আগুন বিদ্যুৎ বা বৈদ্যুতিক সংযোগের কারণে সৃষ্ট হয়। যেমন, শর্ট সার্কিট বা বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ত্রুটির ফলে আগুন লাগে। এটি নেভাতে জল ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ জল বিদ্যুৎ পরিবাহী। বরং, বিশেষ ধরনের অ-পরিবাহী নির্বাপক ব্যবহার করতে হয়।
ক্লাস ডি
ক্লাস ডি আগুন পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম এবং সোডিয়ামের মতো ক্ষারীয় ধাতু থেকে সৃষ্টি হয়। এই ধাতুগুলো জলের সংস্পর্শে এসে আরও ভয়ংকরভাবে জ্বলতে পারে। তাই এগুলো নেভাতে বিশেষ পাউডার নির্বাপক ব্যবহার করা হয়।
ক্লাস কে
এই শ্রেণির আগুন ভোজ্য তেল বা রান্নার তেল থেকে লাগে, যা সাধারণত রান্নাঘরে দেখা যায়। তেলের আগুন নেভাতে জল ব্যবহার করা মারাত্মক বিপজ্জনক, কারণ তেলের ওপর জল পড়লে তা ছিটকে আগুন ছড়িয়ে দেয়। এর জন্য বিশেষ রাসায়নিক নির্বাপক বা ভেজা রাসায়নিক নির্বাপক ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য, এই লেখাটি ২০২৪ সালে বিজ্ঞানচিন্তার আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিত। আরও পড়ুন: কাঠে আগুন জ্বললেও ধাতুতে জ্বলে না কেন (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩) এবং রসায়ন থেকে আরও পড়ুন: রসায়ন বিজ্ঞানচিন্তা, জানা অজানা বিজ্ঞানচিন্তা।



