দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলায় উচ্চমূল্যের বাসমতি ও অন্যান্য উন্নত জাতের ধানের পরীক্ষামূলক চাষে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রাণবঙ্গো মিলার্সের উদ্যোগে মোট ১২টি উন্নত ধানের জাত স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন ও ফলন ক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
পরীক্ষাধীন ধানের জাত
এই জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি ও ভারতীয় বাসমতি, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার ব্ল্যাক রাইস (কালো চাল) এবং বেশ কিছু উন্নত স্থানীয় প্রজাতি। এছাড়াও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৫০, ১০৮, ১১৩ ও ১১৪, বাংগলামতি এবং দুটি মোটা সুগন্ধি জাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু বীজ আন্তর্জাতিক উৎস থেকেও সংগ্রহ করা হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তার সন্তুষ্টি
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন সম্প্রতি পরীক্ষামূলক জমি পরিদর্শন করে ফসলের সামগ্রিক কর্মক্ষমতার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে জাতগুলো উৎসাহব্যঞ্জক বৃদ্ধি ও ফলন সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে।
উদ্দেশ্য ও সম্ভাবনা
প্রাণবঙ্গো মিলার্সের কৃষিবিদ মো. নওশাদ হোসেন জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে বাসমতি চাল আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং উচ্চমানের সুগন্ধি ও বিশেষায়িত চালের উৎপাদন নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি একটি টেকসই মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তুলতে চায়, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং ভোক্তাদের কাছে প্রিমিয়াম চাল সহজলভ্য করবে।
মাঠ পর্যায়ের ফলাফল
মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রদর্শনী প্লটে সব ১২টি জাতই সফলভাবে চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাসমতি ধান তার দানার দৈর্ঘ্য ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধের জন্য আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, গাঢ় বেগুনি-কালো রং ও বাদামের মতো স্বাদের জন্য পরিচিত ব্ল্যাক রাইস উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ও ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমানোর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অর্থনৈতিক প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উদ্যোগ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় মাটি ও জলবায়ুর সাথে এই জাতগুলোর সফল অভিযোজন রপ্তানিমুখী সুগন্ধি চাল উৎপাদনের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রাথমিক পর্যায়ে চাষটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলন ও গুণগত মানের দিক থেকে প্রত্যাশা পূরণ হলে, বৃহত্তর পরিসরে কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা আশাবাদী যে দেশীয়ভাবে উচ্চমূল্যের ধানের জাত উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং সারা দেশের কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হবে।



