পাহাড়ি এলাকায় ধান চাষ করতেন সন্ধ্যামণি চাকমা (৬৫)। তবে এ চাষে তেমন লাভ হতো না তাঁর। পানির সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হতো। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। ওই জমিতেই তিনি করছেন আখ চাষ। নিজের খেতে উৎপাদিত আখের রস বিক্রি করে বছরে আয় করছেন প্রায় চার লাখ টাকার মতো।
আখ চাষে সাফল্যের গল্প
সন্ধ্যামণি চাকমা রাঙামাটি সদর উপজেলা সাপছড়ি ইউনিয়নে খামারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ৯ বছর আগে তিনি আখ চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বাড়ির পাশে ছোট্ট দোকান দিয়ে খেতের আখের রস বিক্রি করছেন। বছরে ৯ মাস চলে তাঁর বেচাবিক্রি। এই দোকানের আয় থেকেই তাঁর সংসার চলে।
সন্ধ্যামণির ছেলে বিটন চাকমা বলেন, আগে ধান চাষ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফসল পাওয়া যেত। তবে এর মধ্যে ১৮ হাজার টাকা উৎপাদন খরচেই চলে যেত। এর বাইরে নিজের শ্রম তো রয়েছেই, কিন্তু এখন আর এমন হয় না। এখন আখ চাষ করে একই জমি থেকে ছয় লাখ টাকার ফসল পাওয়া যাচ্ছে। এসব আখ তিনি বাজারে বিক্রি করেন না। দোকানে রস তৈরিতে ব্যবহার করেন।
জমি ও উৎপাদন
সন্ধ্যামণি যে জমিতে আখ চাষ করেছেন, এর পরিমাণ প্রায় আড়াই একর। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে ধান চাষ করে তেমন লাভ হতো না। এখন আখ চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে। যাঁরা তামাক চাষ করেন, তাঁরা আখ চাষ করলে ভালো ফল পাবেন।
সহায়তা ও যন্ত্রপাতি
সন্ধ্যামণির এ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালে। আখ চাষের বিষয়টি তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানতে পেরেছিলেন। এরপর চাষে সহায়তার পাশাপাশি তিনি অধিদপ্তর থেকে সহযোগিতাও পান। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র থেকে পাম্পমেশিন, আখের রস তৈরি করার যন্ত্র পান। এর পর থেকেই ধান ছেড়ে পুরো দমে আখ চাষে ঝোঁকেন তিনি। এখন আখের রস বিক্রি করে দিনে তাঁর প্রায় দুই হাজার টাকা আয় হয়। বছরে ৯ মাস তিনি আখের রস বিক্রি করেন। খারচ বাদ দিয়ে বছরে লাভ হয় চার লাখ টাকার মতো।
দোকানের অবস্থান
সম্প্রতি সরেজমিনে রাঙামাটির সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের দেখা যায়, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে টিনের ছাউনি দেওয়া ছোট একটি দোকানে ব্যস্ত সময় কাটছে সন্ধ্যামণির। দোকানে আসবাব তেমন নেই। তবে সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারী, যাত্রী, পর্যটকদের অনেকেই তাঁর দোকানে থামছেন। অনেকেই বোতলে করে আখের রস সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাঁর সাফল্যের কথা বলছেন। সাপছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রবীণ চাকমা বলেন, অনেক আগে থেকেই সন্ধ্যামণি আখ চাষ শুরু করেছেন। এখনো তিনি এই পেশায় টিকে আছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউনিয়নজুড়ে তাঁর নাম ছড়িয়েছে। ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা অনেকেই এখন তাঁর দোকানে এসে থামছেন। এরপর আখের রস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
জেলায় আখ চাষের প্রসার
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বর্তমানে ৩৯৩ একর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে। জানতে চাইলে রাঙামাটি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ পারভীন বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের মাটি আখ চাষের জন্য উপযোগী। অনেক কৃষকই এখন আখ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁরা সফলতা পাচ্ছেন। কৃষকদের চাষে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সহযোগিতা করা হচ্ছে।



