নির্ধারিত সময়ে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম, ঘোষিত হলো ক্যালেন্ডার
নির্ধারিত সময়ে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম

এবার নির্ধারিত সময়ে বাজারে আসছে সাতক্ষীরার আম। অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার (সময়সূচি) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের আগে কোনও জাতের আম পাড়া বা বিক্রি করা যাবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় ক্যালেন্ডার ঘোষণা

রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ‘নিরাপদ আম বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা বাজারজাতের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।’

জাতভেদে আম সংগ্রহের সময়সূচি

ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ বিভিন্ন বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করা যাবে। হিমসাগর আম বাজারে আসবে ১৫ মে। ল্যাংড়া আমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও এক মাস। আগামী ২৭ মে থেকে এ জাতের আম পাড়া যাবে। আর জুনের শুরুতে ৫ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহ করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ও মান নিয়ন্ত্রণ

সভায় জানানো হয়, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা থেকে ১০০ টন আম বিদেশে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রফতানিযোগ্য মান নিশ্চিত করতে আমের গুণগত মান বজায় রাখা এবং সময়ের আগে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখা হবে। এ লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত, চেকপোস্ট ও বিশেষ তদারকি দল কাজ করবে। পাশাপাশি কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।

সভায় উপস্থিতি

সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, আমচাষি মোখলেছুর রহমান, কবির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জেলার সব উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি বিভাগের তথ্য

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি আমের জাত পরিপক্ব হওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। তার আগে আম পাড়া হলে স্বাদ ও গুণগত মান কমে যায়, যা আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৫ সাল থেকে সাতক্ষীরার আম ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রফতানি হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

চলতি মৌসুমের পরিসংখ্যান

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ৩৫০টি বাগানে প্রায় ১২ হাজার ৩০০ চাষি আমের চাষ করেছেন। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে আম স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এখানে আমের মুকুল আগেভাগে আসে এবং ফলও দ্রুত পাকে। তবে অপরিপক্ব আম পাড়া ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে।’