১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ প্রদর্শনীতে দর্শকদের ভিড়, বৈদ্যুতিক বাইকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে
ঢাকা অটো সিরিজ প্রদর্শনীতে দর্শকের ভিড়, বৈদ্যুতিক বাইকের চাহিদা

রাজধানীর কুড়িলে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ২৩ এপ্রিল শুরু হওয়া ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশনস’ শেষ হয়েছে আজ। তিন দিনের এই প্রদর্শনীতে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। প্রদর্শনীতে দর্শকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক বাইক ও সাশ্রয়ী মূল্যের নতুন গাড়ির প্রতি আগ্রহ দেখা গেছে।

নতুন গাড়ির প্রদর্শনী ও গ্রাহকের পছন্দ

প্রদর্শনীতে চীনের অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উলিংয়ের পরিবেশক র‍্যাংগস লিমিটেড ২৫ লাখ টাকায় একটি ৭ আসনের এমপিভি গাড়ি বিক্রি ও প্রদর্শন করেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. ইকরাম খান বলেন, ‘মূল্য সাশ্রয়ী গাড়িতে পুরো পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা যায়, এমন একটি গাড়ি খুঁজতে এসেছি। উলিংয়ের কর্টেজ মডেলটি পছন্দ হয়েছে। চামড়ায় মোড়ানো, অডিও স্টিয়ারিং সুইচ, প্রশস্ত কনসোল বক্স, দুই রঙের অভ্যন্তরীণ সজ্জা, ১.৫ লিটার ইঞ্জিন এবং ১৬ ইঞ্চি অ্যালয় চাকা থাকায় গাড়িটিকে শক্তপোক্ত মনে হচ্ছে। তবে ব্র্যান্ডটি পরিচিত নয় বলে কিছুটা সংশয় রয়েছে।’

উলিংয়ের আরও দুটি গাড়ি প্রদর্শনীতে আনা হয়, যার মধ্যে একটি প্লাগ-ইন-হাইব্রিড মডেলের এমপিভি (ড্যারিয়ন পিএইচইভি)। এই গাড়ি শুধু বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে ১২৫ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে এবং ফুল ট্যাংক জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক শক্তি মিলিয়ে ১ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। গাড়িটির মূল্য ৪৩ লাখ টাকা। আরেকটি ৭ আসনের গাড়ি নিউ আলমাজ আরএস, যার মূল্য ৩২ লাখ টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্সিডিজ বেঞ্জ, টয়োটা, মিতশুবিশি, হোন্ডা, এমজি, প্রোটন, চেরি, চ্যাংগান, ডিপল, জিএসি, আইয়ন, ডংফেংসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি প্রদর্শনীতে দেখা গেছে। কোটি টাকার বেশি মূল্যের গাড়ি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যেও গাড়ি ছিল। ছোট গাড়ি থেকে ৭ আসনের বিলাসবহুল গাড়ি পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৈদ্যুতিক বাইকের প্রতি বিশেষ আগ্রহ

ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাইক ও স্কুটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ইউরোপের বিখ্যাত বৈদ্যুতিক বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভি মটো প্রদর্শনীতে যাত্রা শুরু করেছে। দেশে ভি মটোর পরিবেশক সিমবা মোটরসের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ জানান, ঢাকা মোটর শোতে ভি মটোর স্টলে বাইকপ্রিয়দের জন্য ‘টেস্ট রাইড’ ও মূল্য ছাড়ের সুযোগ ছিল।

তবে মোটর সাইকেল নির্মাতা নামকরা প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা, হোন্ডা, বাজাজের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাম চন্দ্র সৌরভ। তিনি বলেন, ‘এই কোম্পানিগুলোর অনুপস্থিতি জ্বালানিনির্ভর মোটরসাইকেলের প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তবে চারিদিকে বৈদ্যুতিক বাইকের জয়জয়কার। সিএফ মটোর এইসেভেন প্রো স্কুটারটি দারুণ। কিন্তু পছন্দের বেশির ভাগ বাইকের মূল্য সাধারণ গ্রাহকদের হাতের নাগালে নেই।’

প্রদর্শনীতে লাখ টাকার নিচ থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের বৈদ্যুতিক বাইক ও জ্বালানিনির্ভর বাইক প্রদর্শিত হয়েছে। বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে আকিজ, আরা, ফোটন, ফোরল্যান্ডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি দেখা গেছে। দেশীয় ব্র্যান্ড বিভা টেক ও বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্র্যান্ড এমইভির গাড়িও প্রদর্শনীতে ছিল।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও ব্যাংকিং সুবিধা

এবারের আয়োজনে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ৭০টির বেশি কোম্পানি ও ২০০টি বুথ অংশগ্রহণ করেছে। মোটরসাইকেল কোম্পানির মধ্যে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো উল্লেখযোগ্য। গাড়ি কিনতে সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা নিয়ে ইস্টার্ন, এনআরবি, ঢাকা, প্রাইম ও ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথ ছিল। ইঞ্জিন অয়েল ও যন্ত্রাংশ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এবং সৌর শক্তি ও ইনভার্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক সমস্যা সমাধানের আধুনিক ব্যাটারি ও যন্ত্রও প্রদর্শিত হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, গতবারের তুলনায় এবার মোটরযানের ক্রয়-বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বাইক প্রদর্শিত হয়েছে, কোম্পানিগুলো আকর্ষণীয় ছাড় দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণের প্রস্তাব এনেছে। ক্রেতাদের জন্য একই ছাদের নিচে সবকিছু যাচাই করে দেখার এটি একটি দারুণ সুযোগ।

‘ঢাকা মোটর শো’ ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই প্রদর্শনী মোটরপ্রেমী এবং অটোশিল্প ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য এক অনন্য মাধ্যম। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জ্ঞান ও প্রযুক্তির বিনিময় ঘটে, যা বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি দেশের মোটর, বাইক, যানবাহন ও ইলেকট্রিক ভেহিকেল খাতের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন আয়োজকেরা। ভবিষ্যতে এই আয়োজনের প্রসার বৃদ্ধি পাবে বলেও মতামত ব্যক্ত করেছেন তাঁরা। তিন দিনব্যাপী এই মেলা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।