দেশজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহে বাড়ছে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু গরমে অস্বস্তি নয়, দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার মধ্যে থাকলে ডিহাইড্রেশন, হিট এক্সহশন, মাসল ক্র্যাম্প, এমনকি হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এসব উপসর্গ হিটস্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে।
তাপপ্রবাহে উপকারী খাবার ও পানীয়
তাপপ্রবাহের সময়ে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তাপজনিত অসুস্থতা এড়াতে কিছু খাবার ও পানীয় বিশেষভাবে উপকারী। নিচে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
ঘোল ও লাচ্ছি
গরমের দিনে ঘোল ও লাচ্ছি হতে পারে শরীর ঠান্ডা রাখার কার্যকর পানীয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বাড়িতে তৈরি ঘোল বা লাচ্ছি পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। রাস্তার পাশের খোলা দোকানের শরবত বা পানীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডাবের পানি
প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের অন্যতম উৎস ডাবের পানি। এতে থাকা খনিজ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। তীব্র গরমে নিয়মিত ডাবের পানি পান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
লেবুর শরবত
গরমে স্বস্তি পেতে ঘরে তৈরি লেবুর শরবতের জুড়ি নেই। এক চিমটি লবণ মিশিয়ে তৈরি করা লেবুর শরবত শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তরমুজ
পানিসমৃদ্ধ ফল হিসেবে তরমুজ গ্রীষ্মের অন্যতম উপকারী খাবার। শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও ভূমিকা রাখে। নিয়মিত তরমুজ খেলে তাপজনিত বিভিন্ন সমস্যা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
শসা
শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি শরীরকে শীতল রাখতে কার্যকর। সালাদ, রায়তা কিংবা শুধু লবণ দিয়ে, যেকোনোভাবেই শসা খাওয়া যায়। গরমের সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখলে শরীর সতেজ থাকে এবং পানির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে।
তাপপ্রবাহে এই খাবার ও পানীয়গুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে হিটস্ট্রোক ও অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।



