ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি ও মাংস কাটতে গিয়ে ঢাকায় অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
নিটোর হাসপাতালে ৫০ আহত
রায়েরবাজারের কসাই মো. ওমর ফারুক কোরবানির গরুর মাংস কাটার সময় একটি চাপাতি পিছলে গিয়ে তাঁর বাঁ হাঁটুতে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে নিটোর হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার কোরবানির সময় আহত হয়ে অন্তত ৫০ জন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। অনেকের হাত ও পায়ে ছুরি বা চাপাতির কাটা ছিল, কেউ কেউ গরুর লাথি বা আক্রমণে আহত হন।
দুপুরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত রোগীদের ভিড় দেখা যায়। ডাক্তার ও নার্সরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত সহযোগী অধ্যাপক ডা. জীবানানন্দ হালদার বলেন, ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ৫০ জন আহত হাসপাতালে আসেন। অধিকাংশকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কেউ ছুরি বা চাপাতির আঘাতে, কেউ গরুর লাথি বা আক্রমণে কাঁধ ও কোমরে আঘাত পেয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেলে আরও ৮০ জন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কোরবানি ও মাংস কাটতে গিয়ে আহত অন্তত ৮০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে তারা এসেছেন। ঈদের নামাজের পর ঢাকাবাসী কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যদিও সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, তবুও গলি, রাস্তার পাশ ও আবাসিক ভবনের নিচে কোরবানি দিতে দেখা গেছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১২০
ঈদে রাস্তা ফাঁকা থাকায় বেপরোয়া গাড়ি চালনার ফলে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়েছে। বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রায় ১২০ জন চিকিৎসা নেন। একজন মারা গেছেন। হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নির্মল কান্তি বিশ্বাস বলেন, বেশিরভাগ আহত মোটরসাইকেল আরোহী, কিছু অটোরিকশা চালক ও যাত্রীও ছিলেন। একজন গুরুতর আহত রোগীকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।



