কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে হাত-পা বেঁধে দুই ছোট ভাইকে আটকে রেখে বড় ভাইকে বল্লমের আঘাতে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার মুশুরিয়া এলাকার ঘোড়াউত্রা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিচয়
নিহত সাইদুর রহমান (৩০) মিঠামইন উপজেলার গোপদিঘী ইউনিয়নের ধলাই গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সাইদুর রহমান তার দুই ভাই আনিছুর রহমান ও আতাউর রহমানকে নিয়ে ঘোড়াউত্রা নদীতে রিংজাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় মুখোশধারী চার জন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র বল্লম ও দা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার ধরণ
হামলাকারীরা প্রথমে ছোট দুই ভাই আনিছুর ও আতাউরকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে সাইদুর রহমানকে লক্ষ্য করে বল্লম দিয়ে আঘাত করে নদীতে ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তিনি পানিতে ডুবে গেলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
উদ্ধার ও মৃত্যু
সাঈদুর রহমানকে উদ্ধার করে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা যায়, তার ডান পাশের ফুসফুসের উপরের অংশে গুরুতর আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে।
পূর্ব বিরোধের অভিযোগ
নিহতের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, চার-পাঁচ দিন আগে জাল ফেলাকে কেন্দ্র করে মশুরিয়া গ্রামের নোয়াব মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে সাইদুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। সে সময় নোয়াব মিয়া তাদের ওই এলাকায় জাল ফেললে ঝামেলা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন। তার দাবি, পূর্বের সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে।
পুলিশের কার্যক্রম
মিঠামইন থানার ওসি লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। নিহত সাইদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।



