জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দলীয় প্রতীক ধানের শীষ ‘চুরি হয়ে গেছে’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে কৃষি ব্যবস্থা। সেই চিন্তা থেকেই মওলানা ভাসানী তার দলের প্রতীক হিসেবে ধানের শীষ বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই প্রতীক ‘চুরি হয়ে গেছে’।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘ধান কেনার মৌসুমে সরকারি শর্ত ও অসময়ের অতিবৃষ্টিতে কৃষকের হাহাকার: সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির কৃষি সেল সেমিনারের আয়োজন করে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মওলানা ভাসানীর নাম এখনও আছে, কিন্তু মার্কাটা চুরি হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, মওলানা ভাসানী বাংলাদেশে কৃষকনির্ভর রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। “যদি সেই ধানের শীষ মার্কাটা তার কাছেই থাকতো, তাহলে আজ ধান পানির নিচে তলিয়ে যেত না। এখন বাস্তবের ধান পানির নিচে, কৃষক হাহাকার করছে। অথচ ধানের শীষ ক্ষমতায় আছে।”
কৃষি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যে ধান দেশের মানুষকে রক্ষা করার কথা ছিল, সেটি এখন ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। বগুড়ার মাঠ থেকে ধান গুলশানে চলে গেছে। কৃষকের পরিবর্তে এখন সিন্ডিকেটই লাভবান হচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ডের নামে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। এখন নতুন প্রকল্প এসেছে—খাল কাটার প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড। আমরাও কার্ড এনেছি, লাল কার্ড। এগুলো যখন ব্যর্থ হবে, আমরা তখন লাল কার্ড দেখাবো।
সীমান্ত পরিস্থিতি ও ভারতের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চায়। তবে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনসিপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মর্তুজা সেলিম। তিনি বলেন, দেশের ধান উৎপাদন ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরও বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সরকার অন্তত এক মাস আগে আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা দেয়, যা কৃষকদের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে সরকার ডিজিটাল ডিজিটাল বলে, কিন্তু কৃষকের জন্য জরুরি আগাম সতর্কতাটুকু দিতে পারে না।
সেমিনারের মুখ্য আলোচক একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চলতি মৌসুমে উত্তরবঙ্গে সেচ সংকট এবং হাওর অঞ্চলের বন্যার কারণে দেশের বোরো ধানের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে খাদ্য সংকট ও খাদ্যমূল্য আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, কৃষিতে শুধু ধান নয়, আলুও বড় ফ্যাক্টর। উত্তরাঞ্চলের কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ করছে। মানুষ দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যাও করছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, কৃষকের ধান তলিয়ে যাচ্ছে আর সরকার টিকটকার কৃষককে কৃষি কার্ড দিচ্ছে। তিনি কৃষি কার্ডের পরিবর্তে কৃষি বীমা চালুর দাবি জানান।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, হাওর অঞ্চলে ফসল কাটায় বিলম্বের পেছনে বীজ বিতরণ ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের গাফিলতি রয়েছে। দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্সের আহ্বায়ক ডা. শাদরুল আলম বলেন, বাজেটে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা এবং তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির কৃষি সেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন দলের উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন।



