ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, মালিক-শ্রমিক সংঘর্ষে উত্তেজনা
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ, সংঘর্ষে উত্তেজনা

মানিকগঞ্জে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় চীনা মালিকানাধীন হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি (বিডি) লিমিটেডে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি কার্যকরের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত

শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে শতাধিক শ্রমিক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

শ্রমিকদের অভিযোগ

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন না করায় তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে একাধিকবার আন্দোলন হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস পেলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আন্দোলনের সময় কয়েকজন শ্রমিককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে কারখানা এলাকায়। এ সময় প্রশাসন ও সংবাদকর্মীদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে।

সরকারি গেজেট ও বেতন বৈষম্য

চলতি বছরের ৭ এপ্রিল প্রকাশিত সরকারি গেজেট অনুযায়ী ‘আয়রন ফাউন্ড্রি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস’ খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়। গেজেট অনুসারে বিভাগীয় শহরের বাইরে গ্রেড-১ শ্রমিকদের মাসিক মোট মজুরি ২৯ হাজার ১৬২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

তবে শ্রমিকদের দাবি, নতুন শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ মাত্র ৭ হাজার ৭০০ টাকা এবং স্থায়ী শ্রমিকদের ১০ হাজার ৩০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা ঘোষিত মজুরির তুলনায় অনেক কম।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, সরকারি গেজেট অনুযায়ী বেতন-ভাতা দাবি করলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজনে ছুটি নিলেও অনেক ক্ষেত্রে বেতন কেটে রাখা হয় বলে অভিযোগ তাদের।

শ্রমিক প্রতিনিধির বক্তব্য

কারখানার সুপারভাইজার জীবন হোসেন বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করলেও বেতন-ভাতাসহ তিনি মাত্র ১০ হাজার ৩০০ টাকা পাচ্ছেন। একাধিকবার আন্দোলন হলেও বেতন বাড়েনি।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

অভিযোগের বিষয়ে কারখানার চীনা কর্তৃপক্ষের দোভাষী মো. মামুন বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের পূর্বনির্ধারিত চুক্তি রয়েছে। নতুন গেজেট প্রকাশের পর সেটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি কার্যকর করতে কিছু সময় প্রয়োজন।

কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মো. জমির হোসেন বলেন, সংঘর্ষে চীনা ব্যবস্থাপনার একজন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনার পর সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে নষ্ট করে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিচালক মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগে পরিচালিত হওয়ায় মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।