দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে না পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজারো কর্মী। অটোরোস্টার ও পুনর্বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। পরে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
আন্দোলনের কারণ ও দাবি
আন্দোলনকারীরা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে ইপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের প্রায় ১২ হাজার কর্মী। অভিযোগ উঠেছে, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের প্রায় ১২ হাজার কর্মীর নাম রোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বোয়েসেল অফিসের কিছু কর্মকর্তাদের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে তাদের নাম রোস্টার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। দীর্ঘ অপেক্ষা ও বারবার আশ্বাসের পরও কোরিয়ায় যেতে না পারায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি
এসব কর্মীরা জানান, আজ আমরা বাধ্য হয়েই টানা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি তবে এতে কাজ না হলে আমরা কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবো।
মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক
আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ইপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বোয়েসেলের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রীর আশ্বাস
বৈঠক শেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে দেখছে। প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “আপনাদের পক্ষ থেকে যে ছয়জন প্রতিনিধি গেছেন, তারা পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আমাদের জানাবেন। প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও সচিব আজ বিকাল পর্যন্ত বসে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন। এরপর আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমাদের কাজ করার সুযোগ দিন। আমরা নতুন সরকার হিসেবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কীভাবে আপনাদের সহযোগিতা করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।”
মন্ত্রীর হতাশা
তবে পূর্বে এই বিষয়ে লিখিত প্রস্তাবনা না দিয়ে সরাসরি আন্দোলনে নামায় কিছুটা হতাশাও প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগে আমাদের কাছে এই ধরনের কোনও প্রস্তাবনা আসেনি। প্রস্তাবনা না দিয়েই রাস্তায় নেমে আসাটা দুঃখজনক।”
আন্দোলনকারীদের দাবি
এদিকে দ্রুত সমস্যার সমাধান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত ইপিএস উত্তীর্ণরা।



