চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আয় রেকর্ড ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০.০২% বেশি। এনবিআর ২১ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
রাজস্ব আয়ের তুলনা
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আয় ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আয় বেড়েছে ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা। তবে রেকর্ড আয় সত্ত্বেও নির্ধারিত লক্ষ্যের তুলনায় ঘাটতি রয়েছে।
লক্ষ্য অর্জন ও ঘাটতি
চলতি অর্থবছরের জন্য এনবিআরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রথম ১১ মাসের লক্ষ্য ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ঘাটতি ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা। লক্ষ্য অর্জনের হার ৮১.৫৮%।
খাতওয়ারি রাজস্ব আয়
খাতওয়ারি হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে কাস্টমস উপ-বিভাগে রাজস্ব আয় বেড়েছে ৭.০৮%, ভ্যাট উপ-বিভাগে ১০.০৫% এবং আয়কর উপ-বিভাগে ১২.৫৪%।
জুন মাসের রাজস্ব আয়
এদিকে জুন মাসের প্রথম ২০ দিনে এনবিআর ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। ফলে ২০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যেই ২০২৩-২৪ অর্থবছরের পুরো বছরের রাজস্ব আয় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকাকে ছাড়িয়ে গেছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
এনবিআর আশা করছে, জুনের বাকি ১০ দিনে আরও প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হলে চলতি অর্থবছরের মোট রাজস্ব আয় ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম হলেও আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৩ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আয় হবে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
রাজস্ব আদায় বাড়ানোর উদ্যোগ
এনবিআর জানিয়েছে, রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সগুলি আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি কর আদায় বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
এছাড়া কর ফাঁকি চিহ্নিত করে রাজস্ব উদ্ধার, নির্বাচিত নিরীক্ষা মামলাগুলি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দ্রুত নিষ্পত্তি, উৎসে আয়কর ও ভ্যাট আদায় কার্যক্রম জোরদারকরণ, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের সমন্বিত নিরীক্ষা কার্যক্রম রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক গতি তৈরি করেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
এনবিআর বলছে, দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সরকারি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে তাদের জোরালো প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



