ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেছেন, ‘আপনি গরিব থাকতে চাইলে কেউ ধনী করতে পারবে না। আমরা কেন গরিব আছি; কেন আরও গরিব থাকার ব্যবস্থা করছি, তা সিরিয়াসলি অনুধাবন করতে হবে। আপনারা যদি মনে করেন, আইএমএফ কিছু টাকা দিলেই ধনী হবেন, সেটি অসম্ভব। পৃথিবীর কোনো দেশ আইএমএফের টাকায় ধনী হতে পারে নাই। ধনী হতে হলে নিজেদেরই হতে হবে।’
বাজেট আলোচনায় আইসিবি চেয়ারম্যান
রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের মিলনায়তনে আজ সোমবার আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক আলোচনায় এ কথা বলেন অধ্যাপক আবু আহমেদ। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী। সঞ্চালনা করেন সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান।
পুঁজিবাজার নিয়ে কঠোর সমালোচনা
পুঁজিবাজার–বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে শেয়ারবাজার দাঁড়ায়নি। আসলে দাঁড়াতে না দিলে শেয়ারবাজার দাঁড়াবে কীভাবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য যে প্রণোদনা ছিল, সেগুলো এখন আর নেই। একসময় এক লাখ টাকা পর্যন্ত ডিভিডেন্ড আয়ে করমুক্ত সুবিধা থাকলেও পরে সেটি উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্যও কোনো সুবিধা নেই। বেশি কর মানেই কিন্তু বেশি রাজস্ব আদায় হওয়া না। পৃথিবীর কোনো দেশ এটি প্রমাণ করতে পারেনি। ফলে এত কর দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য হবে না।
বন্ধ কারখানার প্রণোদনা তহবিলের সমালোচনা
বন্ধ কারখানার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলের সমালোচনা করেন আবু আহমেদ। তিনি বলেন, সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল করেছে। তার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ কারখানা চালু করার জন্য রাখা হয়েছে। তহবিল থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ সুদে পাওয়া যাবে। এতে বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। বন্ধ কারখানার উদ্যোক্তারা তহবিলের অর্থ দিয়ে সরকারি বন্ড কিনবে। সেখানে সুদের হার ১২ শতাংশ। কারখানা চালানোর দরকার কী?
পুঁজিবাজারে ভালোমানের শেয়ার না পাওয়ার কারণ
আবু আহমেদ বলেন, বোম্বে শেয়ারবাজারে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে হিন্দুস্থান লিভার রয়েছে। বাংলাদেশে ইউনিলিভারের সাবান শ্যাম্পু সবাই ব্যবহার করেন। অথচ কখনো এই প্রশ্ন কেউ তোলেননি, ইউনিলিভারের মালিকানা বাংলাদেশের লোকজনের কাছে নেই কেন? নেসলের নুডলস ও কফি সবাই খেলেও তারা কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না? এসব প্রশ্ন না করলে তো ভালোমানের শেয়ার পাবেন না।
সঞ্চয়পত্র ও বৈদেশিক ঋণ নিয়ে সতর্কতা
আইসিবির চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগের জন্য সরকার একটা সঞ্চয়পত্র খোলা রেখেছে। বিনিয়োগের জন্য কিছু নেই, তাই সঞ্চয়পত্র কিনছে মানুষ। পৃথিবীর একটি দেশ দেখান, যেখানে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে মানুষ ধনী হয়েছে। কোথাও দেখাতে পারবেন না। আবু আহমেদ সরকারকে সতর্ক করে বলেন, সামনের দিনে বৈদেশিক ঋণের সুদ দিতে দিতে ক্লান্ত হবেন। একটা ঋণ পরিশোধে আরেকটা ঋণ নিতে হবে। এমন পরিস্থিতি আর্জেন্টিনা, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়ায় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এত বড় সরকারের কী দরকার আছে? সচিবালয়ের সবাই কী কাজ করছে?
সেমিনারে অন্যান্য বক্তা
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকার মামুন রশীদ, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান র্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের (বিসিআই) চেয়ারম্যান আনোয়ার-উল আলম চোধুরী (পারভেজ), ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে এম মোজিবুল হক, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মোহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া প্রমুখ।



