অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরামের প্রস্তাব: করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, ভ্যাট ৭% সমতল হারে
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরামের বাজেট প্রস্তাব: করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরামের বাজেট প্রস্তাব: করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, ভ্যাট ৭% সমতল হারে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ফোরাম (ইআরএফ) আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটি একইসাথে ৭% সমতল ভ্যাট হার নির্ধারণ, ব্যক্তিগত করের সর্বোচ্চ সীমা ৩০-৩৫% এ সীমাবদ্ধকরণ, এবং নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক ও মুনাফা কর হ্রাস বা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় উপস্থাপনা

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সংস্থার পক্ষে লিখিত প্রস্তাব পেশ করেন।

লিখিত বিবৃতিতে ইআরএফ উল্লেখ করেছে যে, এনবিআর ও ইআরএফের যৌথ উদ্যোগ রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারে। সংস্থাটি মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষের করের বোঝা কমাতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে অতিরিক্ত কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করারও প্রস্তাব করেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর সংস্কারের মূল সুপারিশসমূহ

ইআরএফের প্রস্তাবনায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • করযোগ্য আয় নেই এমন ব্যক্তিদের জন্য ব্যাংক সুদে কর কর্তনের উৎসে কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা প্রদান।
  • অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সামগ্রীর উপর করের হার সর্বোচ্চ ০.৫% এ সীমাবদ্ধকরণ।
  • ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের জন্য পৃথক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান।
  • ব্যক্তিগত ভবিষ্য তহবিল করমুক্ত রাখা এবং বাজার মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পদ কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা।
  • মিডিয়া শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য মুদ্রণ, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার উপর করের হার হ্রাস।

প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কার

সংস্থাটি এনবিআরের তিনটি বিভাগ—কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর—এর জন্য পৃথক হেল্পলাইন চালু এবং প্রতিটি বিভাগে বিনিয়োগকারী ও করদাতাদের সহায়তায় ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগের প্রস্তাব করেছে। করদাতা সেবার মান উন্নয়নে জেলা ও সিটি কর্পোরেশনভিত্তিক মধ্যম করদাতা ইউনিট (এমটিইউ) গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়াও, কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রাজস্ব ক্ষতি অনুমান প্রকাশ, এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষিতে আমদানি শুল্ক কাঠামো ধাপে ধাপে হ্রাস এবং অ-নিবাসীদের প্রদত্ত সেবার উপর উৎসে করের হার পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিজিটাল ব্যবস্থা ও জরিপ

ইআরএফ করযোগ্য ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে জাতীয় জরিপ পরিচালনা এবং উপজেলা পর্যায়ে কর প্রশাসন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে। গাড়ি ও বাড়ির মালিকদের আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাংক, ভূমি অফিস, সিটি কর্পোরেশন, বিআরটিএ এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময়ের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে।

সংস্থাটি অবৈধ সিগারেট উৎপাদন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং ইউনিটের কার্যকারিতা শক্তিশালী করে মুনাফা পাচার রোধের উপর জোর দিয়েছে। এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান বিভাগ আধুনিকীকরণ, কর প্রশাসনে প্রভাব বিশ্লেষণ চালু এবং টিআইএন ও বিআইএন একীভূত করে অনন্য আইডি চালু করে কর-ভ্যাট-কাস্টমস কার্যক্রম সহজীকরণেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইতিবাচক অগ্রগতি ও আশাবাদ

বৈঠকে ইআরএফ নেতারা বলেছেন যে, করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধিতে এনবিআরের চলমান উদ্যোগ ইতিবাচক ফলাফল দিচ্ছে এবং বছরের শেষে তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। এই প্রস্তাবগুলো রাজস্ব নীতি সংস্কার ও অর্থনৈতিক সমতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।