জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে নতুন সদস্য: আহসান হাবিবের দায়িত্ব গ্রহণ
এনবিআর-এ আহসান হাবিবের নতুন দায়িত্ব

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল: আহসান হাবিবের নতুন দায়িত্ব

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য রদবদল এনেছে। কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা অণুবিভাগের সদস্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টিলিজেন্স সেলের (সিআইসি) সাবেক মহাপরিচালক আহসান হাবিবকে। বর্তমান সদস্য জিএম আবুল কালাম কায়কোবা অবসরে যাওয়ায় তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ১৫ ব্যাচের এই কর্মকর্তা।

অফিস আদেশ জারি ও অন্যান্য নিয়োগ

রোববার (১৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেছে এনবিআর। আদেশে আহসান হাবিব ছাড়াও সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত আরেক সদস্য আবুল কালাম আজাদের দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। সদ্য যোগদানকৃত এই কর্মকর্তাকে ট্যাক্সেস লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্টের সদস্য করা হয়েছে, যা কর আইন ও প্রয়োগ বিভাগের দায়িত্ব নির্দেশ করে।

আহসান হাবিবের পূর্ববর্তী কর্মজীবন ও সাফল্য

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আহসান হাবিব সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগ সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অলিগার্কদের কর ফাঁকি অনুসন্ধান শুরু করে আলোচনায় আসেন। কর অঞ্চল-১৫ এর কমিশনার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি এস আলম গ্রুপের কর ফাঁকি অনুসন্ধান শুরু করেন। পরবর্তীতে সিআইসি মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাদের পরিবার, শীর্ষ আমলা এবং ১২টি করপোরেট গ্রুপসহ অলিগার্কদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও বিদেশে অর্থপাচার ব্যাপকভাবে তদন্ত করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই তদন্তের মাধ্যমে তিনি কয়েকশ কোটি টাকা কর আদায়ে সফল হন, যা জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানগুলো কর ফাঁকি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন দায়িত্বের সম্ভাব্য প্রভাব

আহসান হাবিবের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ কর প্রশাসনে আরও দক্ষতা ও জবাবদিহিতা আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা এবং সিআইসিতে কাজের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা এনবিআরের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে, কর আদায় বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত সরকারের কর সংস্কার ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আহসান হাবিবের নেতৃত্বে কর প্রশাসনে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।