ঢাকার ধামরাইয়ে গ্যাস সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসনের আশ্বাসে ছাড়
ধামরাইয়ে গ্যাস সংকটে মহাসড়ক অবরোধ, অবশেষে ছাড়

ঢাকার ধামরাইয়ে আবাসিক গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ ছেড়ে দেন। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কালামপুর এলাকায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বেলা ১২টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ ছেড়ে দেন তারা।

দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে ক্ষোভ

অবরোধে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা জানান, গোয়ালদী, বাটুলিয়া, মহিশাষী, কাওয়ালীপাড়া থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকরা প্রায় দুই বছর ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাস সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ সময় চুলায় আগুন জ্বলে না। ফলে বাধ্য হয়ে রান্নার জন্য এলপিজি সিলিন্ডার ও কাঠসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু গ্যাস ব্যবহার করতে না পারলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

অবৈধ বুস্টার ব্যবহারের অভিযোগ

এ সময় স্থানীয় গ্রাহকরা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া একটি লিখিত আবেদনে অভিযোগ করেছেন, কালামপুর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশের ডিআরএস (ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন) থেকে তাদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ওই লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ডিআরএসের পূর্ব পাশে থাকা একটি রি-রোলিং মিল এবং কালামপুর বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন একটি সিরামিক কারখানা অবৈধভাবে বুস্টার ব্যবহার করে অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নেওয়ায় আবাসিক এলাকায় গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রাহকদের দাবি: বিল মওকুফ ও মিটার স্থাপন

গ্রাহকদের দাবি, আবাসিক লাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারভিত্তিক বিল আদায়ের জন্য আবাসিক সংযোগে গ্যাসের মিটার স্থাপনেরও দাবি জানান তারা।

অবরোধে অংশ নেওয়া কালামপুর এলাকার সুলতানা বেগম নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে হবে। আর যত দিন গ্যাস পাইনি, তত দিনের বিল মওকুফ করতে হবে।’ শাহানা আক্তার নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘আমার ছেলে স্কুলে পড়ে, স্বামী চাকরি করে। সকালে আমরা ঠিকমতো রান্না করতে পারিনি, খেতেও পারিনি। আমাদের একটাই দাবি, আমাদের গ্যাস সংযোগ দিতে হবে আর যতদিন আমরা গ্যাস পাইনি, ততদিনের গ্যাস বিল মওকুফ করতে হবে।’

যাত্রীদের দুর্ভোগ ও প্রশাসনের আশ্বাস

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক যাত্রী। অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় দিকে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের সারি তৈরি হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে। মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শাহীনুর ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ‘দুই-তিন ঘণ্টা ধরে কয়েকজন মানুষ সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রশাসনেরও কাউকে দেখা যাচ্ছে না।’

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল মামুন। তিনি অবরোধকারীদের উদ্দেশ্যে জানান, এই বিষয়টি গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এমন আশ্বাসে বেলা ১২টার দিকে তারা অবরোধ ছেড়ে দেন।