কুমিল্লায় জ্বালানি তেলের অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি ও লাইসেন্সবিহীন ব্যবসায় দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং লাইসেন্সবিহীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা প্রশাসনের একটি অভিযানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও পেট্রোলিয়াম আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়ের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজিব তালুকদার। অভিযানকালে র্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার সিনিয়র এএসপি ও স্কোয়াড কমান্ডার মিঠুন কুমার কুণ্ডুও উপস্থিত ছিলেন, যা নিরাপত্তা বাহিনীর সংশ্লিষ্টতাকে তুলে ধরে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সজিব তালুকদার জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সদর দক্ষিণ থানাধীন রাজাপাড়া উত্তর চৌমুহনীর হোসেন এন্টারপ্রাইজকে নির্ধারিত মূল্যের অধিক মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে, এই প্রতিষ্ঠানে পাওয়া ৪৮ লিটার অকটেন উপস্থিত ক্রেতাদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যেখানে ক্রেতা প্রতি সর্বোচ্চ দুই লিটার বরাদ্দ রাখা হয়।
অপর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
অভিযানে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে গোপনীয় স্থানে (বাসা) জ্বালানি তেল মজুদ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত বা স্থান পরিদর্শনে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাধা প্রদান এবং অসহযোগিতা করায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ২০(২) ধারা মোতাবেক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাইসেন্স ব্যতীত দাহ্য পেট্রোলিয়াম পণ্য, যেমন পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন, অবৈধভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রয় করে আসছিলেন। এছাড়াও, তারা অননুমোদিত পাত্রে এই পণ্য বিক্রয় করছিলেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রতিজ্ঞা
জ্বালানি তেলের অননুমোদিত মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে তথা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই অভিযানটি সরকারি নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এই সক্রিয়তা ভবিষ্যতে অনুরূপ অনিয়ম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যা সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।



